ভারত থেকে সুতো আমদানিতে বন্ড-সুবিধা বাতিল করতে চায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি এমনটাই সুপারিশ করেছে তারা। শেখ হাসিনার জমানা শুরুর অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভারত থেকে সুতো আমদানিতে এই সুবিধা দিয়ে আসছে ঢাকা। আশির দশক থেকে চলে আসা এই সুবিধা এ বার বন্ধ করে দিতে চায় ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশে সুতো আমদানির ক্ষেত্রে বন্ডের সুবিধা হল আসলে শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা। যদিও সব ধরনের সুতো আমদানির ক্ষেত্রে বন্ডের সুবিধা বাতিল করতে চাইছেন না ইউনূসেরা। তাঁরা চাইছেন ভারত থেকে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতোর উপর থেকে প্রত্যাহার করা হোক বন্ডের সুবিধা। সুতো কতটা সরু বা মোটা, তা বোঝাতে কাউন্ট শব্দটি ব্যবহার হয়। কাউন্ট বেশি হলে সুতো সরু হয়, কম হলে সুতো মোটা হয়। বস্তুত, বস্ত্রশিল্পের জন্য ভারত থেকে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতোই বেশি আমদানি করেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রকের দাবি, ভারত থেকে সুতো আমদানিতে এই সুবিধা দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের সুতো কারখানাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই কারণেই এই বন্ডের সুবিধা বাতিল করতে চায় তারা। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার সে দেশের বাণিজ্য মন্ত্রকের নেই। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতিমধ্যে নিজেদের সুপারিশ এনবিআর-এর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রক। এনবিআর-এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহমান খান এ বিষয়ে ‘প্রথম আলো’কে বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রকের চিঠিটি আমরা সব দিক থেকে বিশ্লেষণ করছি। সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন:
বস্তুত, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে এক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সেই টানাপড়েন প্রবেশ করেছে ক্রিকেটের ময়দানেও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ বারের ভারতে দল পাঠাতে রাজি হচ্ছে না বাংলাদেশ বোর্ড। এখনও সেই সিদ্ধান্তেই অনড় তারা। ক্রিকেট এবং কূটনীতির এই টানাপড়েনের মাঝে এ বার ভারতের সঙ্গে কি বাণিজ্যও কমিয়ে আনতে চাইছে ঢাকা? সুতো আমদানিতে বন্ড-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ ঘিরে সেই প্রশ্নই উঠে আসতে শুরু করেছে।
এর আগে গত বছরের এপ্রিলে ভারত থেকে স্থলপথে সুতো আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও সমুদ্রপথ বা অন্য কোনও মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে সুতো আমদানিতে কোনও ঘোষিত প্রভাব পড়েনি। পরবর্তী সময়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর এবং ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়েছিল সে দেশের বস্ত্রকলগুলির সংগঠন ‘বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন’ (বিটিএমএ)। অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, ওই আবেদনগুলির প্রেক্ষিতেই এনবিআর-কে এই সুপারিশ করেছে তারা।