বিয়ে করেননি। তবে গত ৪০ বছর ধরে লিভ-ইন (একত্রবাস) সম্পর্কে রয়েছেন! তিনি অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় কর্মচারী। তাঁর এবং তাঁর একত্রবাস সঙ্গীর সন্তানও রয়েছে। ‘সামাজিক স্বীকৃতি’ না-থাকায় অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ওই কেন্দ্রীয় কর্মচারীর সঙ্গী এবং তাঁর সন্তানেরা। অবসরের পর এক জন কেন্দ্রীয় কর্মচারীর পরিবার যা সুবিধা পান— সেই স্বাস্থ্যপরিষেবা, পারিবারিক পেনশন, তাতে যেন আবেদনকারীর লিভ-ইন সঙ্গী এবং তাঁর সন্তানদের যুক্ত করার বিষয় বিবেচনা করা হয়। কেন্দ্রকে এমনই নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট।
পারিবারিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি মধু জৈনের বেঞ্চে ওই অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় কর্মচারী আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে বেঞ্চ জানায়, ওই কর্মী কখনই তাঁর সম্পর্কের কথা গোপন করেননি। তাই অবসরের পর অবসরকালীন সুবিধাগুলিতে তাঁর সঙ্গী এবং সন্তানদের নাম পরিবারের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টাকে ‘অসদাচরণ’ বিবেচনা করার কখনই ঠিক নয়!
আদালত সূত্রে খবর, আবেদনকারীর স্ত্রী অনেক বছর আগে সংসার ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কখনওই বিবাহবিচ্ছেদে রাজি হননি। ১৯৮৩ সাল থেকে ওই কেন্দ্রীয় কর্মচারী অন্য এক মহিলার সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। বিবাহবিচ্ছেদ না-হওয়ায় তাঁকে বিয়েও করতে পারেননি আবেদনকারী। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা একত্রবাস করছেন। তাঁদের দু’টি সন্তানও রয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানকে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। তদন্তে তাঁকে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করে ‘রায়’ দেওয়া হয়। শাস্তিস্বরূপ চার বছর তাঁর বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়। অবসর গ্রহণের আগে ২০১১ সালে কূটনৈতিক পাসপোর্টে আবেদন করার সময় তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী এবং সন্তানদের তথ্য ভুল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেও তদন্ত হয়। অবসরের পর তাঁর মাসিক পেনশন এবং গ্র্যাচুইটি সুবিধার ৫০ শতাংশ আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দিল্লি হাই কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘‘আবেদনকারীর মাসিক পেনশন এবং গ্র্যাচুইটি সুবিধার ৫০ শতাংশ আটকে দেওয়া বা তাঁর সঙ্গী-সন্তানদের পারিবারিক পেনশন সুবিধা দেওয়া অস্বীকার করার কোনও বৈধ কারণ আমরা খুঁজে পাইনি। তাই আমরা নির্দেশ দিচ্ছি আবেদনকারীকে তাঁর প্রাপ্য পেনশন এবং গ্র্যাচুইটির টাকা দিতে হবে। আর যে সময় থেকে তাঁর প্রাপ্য আটকে রাখা হয়েছে, সেই সময় থেকে বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে বকেয়ার উপর সুদ দিতে হবে আবেদনকারীকে।’’ একই সঙ্গে তাঁর একত্রবাসের সঙ্গী এবং সন্তানদের অবসরকালীন সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখতে হবে সরকারকে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী চাকরি করার সময়ই তাঁর স্ত্রীর ছেড়ে চলে যাওয়া এবং একত্রবাসে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাই কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যগোপনের বিষয় অমূলক। সেই কারণে ২০১৮ সালে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের (সিএটি) দেওয়া নির্দেশ বাতিল করছে আদালত।