ভিটামিন, খনিজ, ফ্যাট, ফাইবার, প্রোটিনে ভরপুর দুধকে সুষম খাবারের তালিকায় ফেলা হয়। এ দেশে গরুর দুধ খাওয়ার চল খুব বেশি। শিশু থেকে বয়স্ক— সকলেরই খাবারের তালিকায় থাকে দুধ।
শক্তি জোগাতে, হাড় মজবুত রাখতে দুধ উপকারী। তবে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে, ওজন বেড়ে গেলেও তা নির্ভয়ে খাওয়া উচিত কি?
কোলেস্টেরল হল চর্বি জাতীয় মোমের মতো পদার্থ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফলে শরীরে বাসা বাঁধে কোলেস্টেরলের মতো অসুখ। বয়স বাড়লেও এমন সমস্যা দেখা দেয়। তবে কোলেস্টেরল মাত্রই খারাপ বা শরীরের জন্য অপ্রয়োজনীয় নয়। ‘হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’ বা ‘এইচডিএল’ ভাল কোলেস্টেরল হিসাবে পরিচিত। তবে এলডিএলকে (‘লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’) খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। কারণ এটি শরীরের ক্ষতি করে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে উচ্চ মাত্রার ফ্যাট জাতীয় খাবারে বিধিনিষেধ চলে আসে। যেহেতু গরুর দুধেও ফ্যাট থাকে, তাই তা খাওয়া যায় কি না, তা নিয়েও অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। গুরুগ্রামের হার্টের অসুখের চিকিৎসক সুশান্ত শ্রীবাস্তবের কথায়, ‘‘কোলেস্টেরল বাড়লেই দুধ পুরোপুরি ছাড়তে হবে এই ভাবনা সঠিক নয়। গরুর দুধও খাওয়া যেতে পারে, তবে তারও নিয়ম আছে। গরুর দুধে থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে দুধটি থেকে যদি ফ্যাট বাদ দেওয়া যায়, বা ফ্যাটের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে সেই দুধ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।’’ প্রাণিজ দুধের বদলে উদ্ভিজ্জ দুধ খাওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন চিকিৎসক। তাঁর কথায়, উদ্ভিজ্জ দুধ (সয়া দুধ, কাঠবাদামের দুধ)অনেক বেশি নিরাপদ।
কোন ধরনের দুধ খাওয়া যাবে, কোনটি বিপজ্জনক
গরুর দুধ: ‘হোল কাউ মিল্ক’ বা ফ্যাট যুক্ত গরুর দুধ কোলেস্টেরলের রোগীরা নিয়মিত খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। বদলে কম ফ্যাটের দুধ খাওয়া যেতে পারে।
লো ফ্যাট দুধ: এই ধরনের দুধে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ফ্যাটের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়। দুধে ক্যালশিয়াম এবং প্রোটিন পূর্ণমাত্রায় মেলে। ফলে এই ধরনের দুধ খেলে সাধারণত এলডিএল বাড়ে না।
মোষের দুধ: মোষের দুধে ফ্যাটের মাত্রা অনেক বেশি। ঘন দুধ সুস্বাদু হলেও কোলেস্টেরল বেশি থাকায় কোলেস্টেরলের রোগীদের খাওয়া উচিত নয়।
প্রাণিজ দুধ
কাঠবাদামের দুধ: গরম জলে ভিজিয়ে খোসা ছাড়িয়ে তা জল দিয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে নিলে দুধের মতোই পানীয় মেলে। কাঠবাদামের দুধে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা রক্তে ভাল কোলেস্টেরল বা এইচডিএল-এর মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
সয়া দুধ: সয়াবিনের দানা থেকে দুধ তৈরি হয়। উদ্ভিজ্জ এই দুধ কোলেস্টেরল ঊর্ধ্বমুখী হলেও নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়।
ওট্সের দুধ: ওট্স আর গরম জল দিয়ে মিক্সারে ঘোরালে যে সাদা পানীয় মেলে তাকেই ওট্সের দুধ বলে। এই দুধও খারাপ কোলেস্টেরল বশে রাখতে সহায়ক।