E-Paper

নজর জ্বালানিতে, ভারত-আফ্রিকা সম্মেলনের প্রস্তুতি

সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, আফ্রিকার সব রাষ্ট্রকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে প্রতিনিধিত্বের হার ভাল থাকবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৮:১৭

—প্রতীকী চিত্র।

টালমাটাল ভূকৌশলগত পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি, বিরল খনিজ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন নতুন দিক প্রসারিত করতে, চলতি মাসের শেষে চতুর্থ ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সম্মেলন-এর প্রস্তুতি শুরু করে দিল নয়াদিল্লি। শেষ বার এই সম্মেলনটি হয়েছিল ২০১৫ সালে, দিল্লিতেই। মাঝে প্রায় এক দশক বন্ধ ছিল অংশীদারির এই মঞ্চ। মাঝে এসে গিয়েছিল অতিমারি, কূটনৈতিক শ্লথতা। সব কাটিয়ে উঠে এ বার এই মহাউদ্যোগ। সম্মেলন শেষ হলে ১ জুন আফ্রিকার অনেকগুলি দেশকে নিয়ে দিল্লিতেই বসবে ‘বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর বৈঠক।

সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, আফ্রিকার সব রাষ্ট্রকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে প্রতিনিধিত্বের হার ভাল থাকবে। বলা হচ্ছে, ইতিবাচক ও সম্মুখবর্তী ফলাফল নিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হবে সম্মেলনের শেষে এবং তা যাতে আফ্রিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এমন ভাবে এগোনো হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে আফ্রিকার সভ্যতাগত সংযোগ এই সম্মেলনের মূল বিষয়। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দশক ধরে চিন আফ্রিকায় অতি সক্রিয় এবং তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে ভারত। আসন্ন সম্মেলনের পর সেই ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও থাকছে মোদী সরকারের।

সরকারি সূত্রে আজ জানানো হয়েছে, কৃষি, শিক্ষা, এবং খাদ্য সুরক্ষার বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে চলেছে আলোচনায়। ভারতে এই মুহূর্তে জিম্বাবোয়ের ৭ হাজারেরও বেশি ছাত্রের পঠনপাঠন এবং বসবাস। চেষ্টা করা হবে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনিময় বাড়ানোর। বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে। ভারতের বাণিজ্য সচিব সম্প্রতি কেনিয়া এবং তাঞ্জানিয়া সফর সেরে ফিরেছেন। ভারত ইতিমধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন শুল্ক কেন্দ্রগুলির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, “যদি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বাড়ে, উভয়েরই লাভ।”

ভারতের ৪৬টি দূতাবাস রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে। তার মধ্যে ১৭টি খোলা হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। অনেক দেশকেই বিনা শুল্কে তাদের পণ্য ভারতের বাজারজাত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে ভারত থেকে আফ্রিকায় ৫০টি উচ্চ পর্যায়ের সফর হয়েছে। আর আফ্রিকা থেকে ভারতে সফরের সংখ্যা শতাধিক। সরকারি কর্তা জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর হচ্ছে। দেশের শক্তি ক্ষেত্রে চাহিদা পূরণে ১০ শতাংশের বেশি আমদানি করা হয় আফ্রিকার দেশগুলি থেকে। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে এই আমদানি আরও বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

summit

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy