তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ এবং খুনের আসামিকে ফাঁসির সাজা দিল পুণের আদালত। অপরাধের দু’মাসের মধ্যে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিল বিশেষ আদালত। ওই ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে মনে করছেন বিচারক।
ঘটনাটি ঘটে গত ১ মে। খাবার এবং বাছুর দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে পুণে জেলার এক গ্রাম থেকে ওই শিশুকে তুলে নিয়ে যান আসামি। তিন বছরের ওই শিশুকন্যাকে একটি খামারের কাছে নিয়ে গিয়ে তিনি ধর্ষণ করেন। তার পরে শ্বাসরোধ করে তিনি খুন করেন ওই শিশুকে। গত ২৫ জুন পুণের বিশেষ আদালতের বিচারক এসআর সালুঙ্কে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সোমবার আসামির সাজা ঘোষণা করেন তিনি। আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার সময় কাঠগড়াতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিযুক্ত। তাঁর অপরাধকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলেও বর্ণনা করেছেন বিচারক। আদালত আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিতেই এজলাসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতা শিশুর পরিবারের সদস্যেরা।
রায়ের মূল অংশ পড়ে শোনানোর সময়ে বিচারক জানান, যে সব সাক্ষ্য-প্রমাণ জমা পড়েছে তার ভিত্তিতে অপরাধের ভয়াবহতা প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, আসামির বিরুদ্ধে অতীতেও গুরুতর হামলার অভিযোগ রয়েছে। বিচারক বলেন, “অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হয়েছে। নির্যাতিতার প্রতি অমানবিক আচরণ এবং অত্যাচার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্যাতিতা ছিল এক নিষ্পাপ ও অসহায় শিশু। যে ভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে, তা চরম বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেয়। কোনও উস্কানি ছাড়াই ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে শিশুকে। এটি এতটাই নৃশংস ভাবে করা হয়েছে, তা মানুষের বিবেককে স্তম্ভিত করে দেয়।”
আরও পড়ুন:
এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তের সাজা কমানোর মতো কোনও পরিস্থিতি নেই বলেও মনে করছেন বিচারক। তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে একমাত্র একটি বিষয়ই উঠে আসতে পারে। তা হল অভিযুক্তের বয়স। তিনি ৬৫ বছর বয়সি একজন ব্যক্তি। কিন্তু, এটি তাঁর সাজা কমানোর কারণ হিসাবে বিবেচনা করা যায় না। বরং এটি অপরাধের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।”