জনমতের চাপে সিবিএসই-র দুই কর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হলেও কেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদ আঁকড়ে রয়েছেন, তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন রাহুল গান্ধী। তিনি আজ বলেন, ‘‘তাঁর মন্ত্রকের অযোগ্যতা ও দুর্নীতি প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও নির্লজ্জ ভাবে পদ আঁকড়ে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।’’
এ বারের সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু দ্বাদশের ফল প্রকাশের পরেই অভিযোগ ওঠে, ওএসএম পদ্ধতি ত্রুটিযুক্ত। রাহুল অভিযোগ তোলেন, সমস্ত শর্ত শিথিল করে স্ক্রিনিং-এর দায়িত্বে থাকা সংস্থাকে নিয়ম ভেঙে বরাত দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জনমতের চাপে সিবিএসই-র চেয়ারম্যান রাহুল সিংহ ও সংস্থার সচিব হিমাংশু গুপ্তকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
গত কালই কংগ্রেস অভিযোগ করে, শিক্ষামন্ত্রীকে বাঁচাতে আমলাদের উপর কোপ পড়েছে। আজ ফের রাহুলের প্রশ্ন, শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব শিক্ষামন্ত্রীর। একই অপরাধে যদি আমলাদের সরে যেতে হয়, তা হলে মন্ত্রী কেন ছাড় পাবেন? অভিযোগ উঠেছে, অন-স্ক্রিন মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ভাবে যখন খাতা দেখা হচ্ছিল, সে সময়েই ওই প্রযুক্তি ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে বলে দেখা যায়। তার পরেও ত্রুটিযুক্ত পদ্ধতি ব্যবহার করে কেন ১৮ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করা হল, প্রশ্ন বিরোধীদের।
উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য ২৯ তারিখ থেকে পড়ুয়ারা আবেদন জানাতে পারবেন বলে আগেই জানিয়েছিল সিবিএসই। পরে সেই তারিখটি পিছিয়ে হয় ১ জুন। শেষে ২ জুন নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে যখন ওই পুনর্মূল্যায়নের পোর্টালটি খোলে, তখন তাতে ফের পরীক্ষার খাতা দেওয়ার জন্য টাকা মেটাতে গিয়ে আবেদনকারীদের সমস্যা হয় বলে অভিযোগ করেছেন রাহুল। আজ আম আদমি পার্টির দিল্লির বিধায়ক অতিশীও অভিযোগ করেন, সিবিএসই-র ওই পোর্টালে কেবল সরকারি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, যদি কারও সরকারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট না থাকে, তা হলে কি আবেদন জানানো যাবে না?
পরে সিবিএসই বিবৃতি দিয়ে জানায়, সব ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ও ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)