E-Paper

পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত কেরল: রাহুল

কেরলের ১৪০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস এ বার ৯২টি আসনে লড়ছে। বাকি আসনে লড়বে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর শরিকরা। তারাও নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৫
রাহুল গান্ধী।

রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।

কেরলে এলডিএফ এবং এনডিএ-র আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ১৪০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ার পরে রাহুল গান্ধী দাবি করলেন, কেরলের মানুষ ‘পরিবর্তন’-এর জন্য তৈরি। দলের সাংসদেরা বিধানসভা ভোটে লড়বেন না বলে নিয়ম তৈরির পরেও কেরলের কংগ্রেস সাংসদ কে সুধাকরন বিধানসভা ভোটে লড়ার জেদ ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিরস্ত করে কংগ্রেস কেরলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল।

কেরলের ১৪০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস এ বার ৯২টি আসনে লড়ছে। বাকি আসনে লড়বে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর শরিকরা। তারাও নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের ৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন মহিলা বলে দলের মধ্যে আপত্তি উঠেছে। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র শামা মহম্মদ আজ সমাজমাধ্যমে এ নিয়ে মুখ খুলে রাহুলের হস্তক্ষেপচেয়েছেন। তাঁর মতে, মহিলাদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ক্ষোভ সত্ত্বেও আজ রাহুলের দাবি, ‘টিম ইউডিএফ হল টিম কেরলম’। তাঁর বক্তব্য, কেরলম (কেরলের নতুন নাম)-এর বার্তা স্পষ্ট। মানুষ পরিবর্তনের জন্য তৈরি। তাঁরা এমন একটি সরকার চাইছে যে সরকার মানুষের কথা শুনবে, বুঝবে এবং সততার সঙ্গে কাজ করবে।

২০১৯ থেকে ২০২৪—কেরলের ওয়েনাড়ের সাংসদ ছিলেন রাহুল। এখন সেখানে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা সাংসদ। সাধারণত পাঁচ বছর অন্তর কেরলে সরকার পাল্টায়। সেই নিয়ম ভেঙে কেরলে গত ১০ বছর পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে বাম সরকার চলছে। এ বার কংগ্রেস সরকারে ফিরতে মরিয়া। কেরলের বিধানসভা নির্বাচন তাই গান্ধী পরিবারের সম্মানের লড়াই। কারণ কংগ্রেস হেরে গেলে গান্ধী পরিবারের দিকে আঙুল উঠবে। আজ রাহুল সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমার কাছে কেরলম হল নিজের বাড়ি। কেরলমের মানুষ আমার পরিবার। তাঁরা আমাকেযে শিক্ষা দিয়েছেন, যে ভালবাসা দিয়ে আমাকে কাছে টেনে নিয়েছেন, তার জন্য আমি কেরলের মানুষেরকাছে ঋণী’।

কংগ্রেস নেতাদের একাংশ মনে করছেন, কেরলে কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনে প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করতে দেরি হয়েছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার আগেই দলের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর গদি নিয়ে লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। তার উপরে তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী তারুর কখনও কেন্দ্রের মোদী সরকার, কখনও রাজ্যের বাম সরকারের প্রশংসা করে চলেছেন। ‘টিম রাহুল’-এর এক সদস্যের পাল্টা যুক্তি, ইউডিএফ এখন ১৪০ জনের প্রার্থীতালিকা নিয়ে তৈরি। বামেরা এখনও সব আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। এনডিএ প্রার্থী খুঁজছে। তার পরেও বলা হচ্ছে, কংগ্রেস তৈরি নয়! গোটা ইউডিএফ-এ একজনও প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেনি। আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। যা থেকে স্পষ্ট, নিখুঁত ভাবে প্রার্থী তালিকা তৈরি হয়েছে। রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ও সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল তিন দিন ধরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জট কাটিয়েছেন। তাই সাংসদ সুধাকরনকে প্রার্থী করা না হলেও তিনি দলের সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

পর্যাপ্ত মহিলা প্রার্থী না-দেওয়া নিয়ে শামা মহম্মদ যে ক্ষোভ জানিয়েছেন, তা নিয়ে কংগ্রেস সূত্রের দাবি, শামা নিজে কন্নুর থেকে প্রার্থী হতে চাইছিলেন। অন্য কাউকে প্রার্থী করায় তিনি যথেষ্ট মহিলা প্রতিনিধিত্ব নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন। এ নিয়ে কংগ্রেসের মহিলা ব্রিগেডে কোনও ক্ষোভ নেই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rahul Gandhi Congress

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy