E-Paper

বাতিল কামরা-ইঞ্জিন, ছাঁট বেচে রেলের আয় ৫৩০ কোটি

রেলের ইয়ার্ড পরিচ্ছন্ন করার অঙ্গ হিসেবে বিপুল পরিমাণে ছাঁট বিক্রিরপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতা অভিযানের সঙ্গে জুড়ে ফেলা হয়েছে।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

লোকাল ট্রেনের কোচ, রেললাইন, ট্রেনের চাকা, স্লিপার, ডিজেল ইঞ্জিন, বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ। বিক্রির তালিকায় রয়েছে সবই। তবে নতুন নয়, পুরনো। এমনই বাতিল বিভিন্ন সামগ্রী বা ছাঁট বিক্রি করে চলতি অর্থবর্ষের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পূর্ব রেল প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা আয় করে নজির সৃষ্টি করেছে। যা এই খাতে গত বছরের আয়ের তুলনায় ৭.০৭ শতাংশ বেশি বলে রেল সূত্রের খবর। ছাঁট বিক্রি করে আয়ের তালিকায় সারা ভারতের নিরিখে প্রথম তিনে রয়েছে পূর্ব রেল। তার মধ্যে শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই রেলের আয় হয়েছে ৭০.২৩ কোটি টাকা। যা সারা ভারতেরনিরিখে দ্বিতীয়।

রেল সূত্রের খবর, মোদী সরকারের আমলে রেলের বাতিল সামগ্রী বা ছাঁট বিক্রি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রেলের ইয়ার্ড পরিচ্ছন্ন করার অঙ্গ হিসেবে বিপুল পরিমাণে ছাঁট বিক্রিরপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতা অভিযানের সঙ্গে জুড়ে ফেলা হয়েছে। রেলের আধিকারিকদের দাবি, বাতিল যন্ত্রাংশ ইয়ার্ডে পড়ে থাকলে অনেকটা জায়গা লাগে। পাশাপাশি, সেগুলি চুরি যাওয়ার ভয় থাকে। খোলা আকাশের নীচে পড়ে সেগুলি আরও নষ্ট হতে থাকে। তাতে আর্থিক ক্ষতি বাড়ে। ওই সব সামগ্রী পাহারা দেওয়ার জন্য লোকবলও বেশি লাগে। তাইইয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখার অঙ্গ হিসেবে ওই সব ছাঁট দ্রুত বিক্রি করে ফেলা হয়। মূলত লোহা ছাড়াও বিভিন্ন ধাতব উপকরণ, কংক্রিট, প্লাস্টিক থাকেওই তালিকায়।

যে সব জিনিস বিক্রি হয়েছে তার মধ্যে ৩৭৬ আই সি এফ, ই এম ইউ এবং মেমু ট্রেনের কোচ বিক্রি করে এসেছে ৪৭ কোটি টাকা। বাতিল সামগ্রীর তালিকায় ১৫টি বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ, ১৭টি ডিজ়েল ইঞ্জিন, ৮৭৪টি ওয়াগন রয়েছে। এ ছাড়াও, ৩৩৯৮৬ টন রেলের লাইন এবং ৩৮৫৮ টন লোহা নয়, এমন সামগ্রী রয়েছে। শুধু মাত্র লোহার ছাঁটের পরিমাণ ৫৮৯১০ টন। এ ছাড়াও, পানাগড়ে কয়েক দশকের পুরোনো একটি পরিত্যক্ত রেলওয়ে সাইডিংয়ের জমি ব্য়বহার করেও যাত্রী ভাড়া বহির্ভূত খাতে আয়ের উপায় বার করেছে রেল। সব মিলে ওই খাতে আয়ের পরিমাণ ৫২৯.৭১ কোটি টাকা।

ওই ছাঁট বিক্রির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অনলাইনে নিলাম (ই-অকশন) প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। কোথায়, কী ভাবে, কোন সামগ্রীর নিলাম হচ্ছে, তার উপর নজরদারি বজায় রাখতে জি পি এস নির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে বলে রেল সূত্রের দাবি। পূর্ব রেলের প্রিন্সিপ্যাল চিফ মেটেরিয়ালস ম্যানেজার সন্দীপ শুক্লের তত্ত্বাবধানে ওই কাজ হয়েছে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর নানা সূত্র থেকে রেলের আয় বাড়ানোর বিষয়ে উদ্য়োগ নিয়েছেন। তাঁর সময়ে পূর্ব রেলের বাণিজ্যিক স্বাস্থ্য অতীতেরতুলনায় উন্নত হয়েছে বলে রেলসূত্রের খবর।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, ‘‘বাতিল সামগ্রী বিক্রির প্রক্রিয়া দ্রুত মেটাতে পারলে কর্মীদের জন্যপরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ তৈরি করা যায়। পাশাপাশি, যাত্রীদের রেল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ভালো হয়।’’ চলতি অর্থবছরের শেষে ওই খাতে রেলের আয়ের অঙ্ক আরও খানিকটা বাড়তে পারে বলেজানাচ্ছেন কর্তারা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rail Scrap

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy