বিহারের রাজধানী পটনায় খান স্যর ওরফে ফয়সল খানের কোচিং সেন্টারের ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তের রহস্যময় মৃত্যু। অভিযুক্ত যুবক খান স্যরের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ শিক্ষক রৌশন আনন্দের ভাই। নেপালে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম প্রিন্স। খান স্যরের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছিল। ছয় বন্ধুর সঙ্গে নেপালে ছিলেন তিনি। শনিবার রাতে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। দুই কোচিং সেন্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধের আবহে প্রিন্সের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রিন্সের মৃত্যুর খবর পেয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে পরিবার। খান স্যরের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও জেলবন্দি রৌশন স্যর।
সূত্রের খবর, দুই স্যরের কোচিং সেন্টারের মধ্যে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ বেশ কয়েক বছরের। এর আগেও দুই কোচিং সেন্টার পরস্পরের বিরুদ্ধে কয়েক বার ঝামেলায় জড়িয়েছিল। ২০২১ সালেও খান স্যরের কোচিং সেন্টারে হামলা হয়। সেই হামলার অভিযোগ ওঠে রৌশন স্যরের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সে সময় খান স্যরের কোচিং সেন্টারে ঢুকে তাণ্ডব চালান প্রিন্স। খান স্যর বার বার রৌশন স্যরের বিরুদ্ধে অশান্তির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর কোচিং সেন্টারে বোমা হামলা ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগ তুলে বার বার সরব হয়েছিলেন খান স্যর। অন্য দিকে, রৌশন স্যরও খান স্যরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। ২০২৩ সালে তাঁর কোচিং সেন্টারে হামলা চালানোর অভিযোগ তোলেন খান স্যরের বিরুদ্ধে। ফলে এই টানাপড়েনের সূত্রপাত কিন্তু সম্প্রতি নয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই দুই স্যরের ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ চলছিল। সম্প্রতি আরও এক বার দুই কোচিং সেন্টার অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে।
গত ২ জুন খান স্যরের কোচিং সেন্টার এবং রৌশন স্যরের জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে প্রথমে হাতাহাতি, পরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। বিহারের রাজধানী পটনায় খান স্যরের কোচিং ইনস্টিটিউট এবং জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের সদস্যদের মধ্যে অশান্তির ঘটনায় দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশে এফআইআর দায়ের হয় খান স্যরের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হন জ্ঞানবিন্দু কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রৌশন।