Advertisement
E-Paper

কাঁঠালের বীজ খাচ্ছেন বলিউডের অভিনেত্রীও! বাঙালির অতিচেনা সে খাবার গরমে কেন খাওয়া ভাল?

বাদামের মতো স্বাদের এই বীজ জুন-জুলাই মাসে কাঁঠাল পাকার মরসুমে বাংলার বাজারে সহজলভ্য। কিন্তু গ্রীষ্মে ওই বীজ খেলে কী কী বাড়তি উপকার মিলতে পারে, জানেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১৩:০৮
কাঁঠালের বীজ গরমে কেন উপকারী? কেন বলিউডের অভিনেত্রীও তা খেতে চান?

কাঁঠালের বীজ গরমে কেন উপকারী? কেন বলিউডের অভিনেত্রীও তা খেতে চান? ছবি: সংগৃহীত।

সমাজমাধ্যমের একটি রিলে বলিউড অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, তিনি শুধু কাঁঠাল নয়, কাঁঠালের বীজও খান। ওই বীজের পুষ্টিগুণ নিয়ে অভিনেত্রী প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বলিউডের অভিনেত্রীর কাছে বিষয়টি হয়তো নতুন, তবে বাঙালির রান্নাঘরে ওই বীজের ব্যবহার বহু কাল ধরে হয়ে আসছে। ডাঁটা কিংবা শাক দিয়ে নিরামিষ এবং আমিষ চচ্চড়িতে কাঁঠালের বীজ দিলে স্বাদ আরও খোলতাই হয়। বাদামের মতো স্বাদের এই বীজ জুন-জুলাই মাসে কাঁঠাল পাকার মরসুমে বাংলার বাজারে সহজলভ্যও। কাঁঠাল না খেলেও বাজার খেকে কাঁঠালের বীজ কিনে এনে খান অনেকে। কিন্তু গরমের ফলের ওই বীজের গুণাগুণ কী, তা জানেন? বিশেষ করে গ্রীষ্মে ওই বীজ খেলে কী কী বাড়তি উপকার মিলতে পারে, জেনে নিন। সেই সঙ্গে সারা বছর কাঁঠাল বীজ খেতে চাইলে কী করা উচিত, তারও পদ্ধতি এখানে রইল।

গরমে কাঁঠালের বীজের উপকারিতা

গরমের ফল কাঁঠাল খেতে ভাল বাসেন অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডি।

গরমের ফল কাঁঠাল খেতে ভাল বাসেন অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডি। ছবি: সংগৃহীত।

রোদের হাত থেকে রক্ষা

কাঁঠালের বীজে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ এবং নানা ধরনের উপকারী অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। গরমে গায়ে রোদ লেগে ত্বকের যে ক্ষতি হয় যেমন, বলিরেখা পড়া, কালচে ছোপ ধরার মতো সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে ভিটামিন এ। এর পাশাপাশি ত্বকে বয়সের ছাপ দূর করতেও এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সাহায্য করে।

ক্লান্তিবোধ কমানো

গরমে শুধু শারীরিক ক্লান্তি নয়, মানসিক ক্লান্তিও একটি বড় সমস্যা। কাঁঠালের বীজে থাকা মাইক্রোনিউট্রিয়্যান্ট সেই ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে, কাঁঠালের বীজে প্রচুর আয়রন থাকায় তা শরীরে অক্সিজেন চলাচলে সাহায্য করে। যা মানসিক এবং শারীরিক ক্লান্তি কাটানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

কাঁঠাল খেয়ে বীজ ফেলেই দেন অধিকাংশে। তবে সেই বীজের গুণ অনেক।

কাঁঠাল খেয়ে বীজ ফেলেই দেন অধিকাংশে। তবে সেই বীজের গুণ অনেক। ছবি: সংগৃহীত।

ঘন ঘন হজমের সমস্যায় উপকারী

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার। যা গরমে হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। গরমে নানা কারণে সহজেই পেটের সমস্যা দেখা দেয়। ডায়েটারি ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে অন্ত্র পরিষ্কার রাখে। হজমক্রিয়াও ভাল রাখে।

সারা দিন শক্তির জোগান

গরমে শরীর সহজেই কাজের শক্তি হারিয়ে ঝিমিয়ে পড়ে। কাঁঠালের বীজে থাকা ডায়েটারি ফাইবার এবং শর্করা শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দিতে থাকে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে। ফলে গরমে ঝিমিয়ে পড়ার মতো সমস্যা হয় না।

এ ছাড়া আর যা যা উপকার সারা বছরই মিলতে পারে

১। যাঁদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম, রক্তাল্পতার সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এই বীজ উপকারী। আয়রন রক্তাল্পতা দূর করে।

সমীরা কাঁঠালের বীজ সংরক্ষণ করে রাখেন পরে খাওয়ার জন্য।

সমীরা কাঁঠালের বীজ সংরক্ষণ করে রাখেন পরে খাওয়ার জন্য। ছবি: সংগৃহীত।

২। হার্টের জন্য ভাল। কাঁঠালের বীজে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ছাড়া এর ফাইবার ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

৩। কাঁঠালের বীজে থাকা ভিটামিন ‘এ’ দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখে।

৪। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠাল বীজে প্রোটিন থাকে ৭ গ্রাম পর্যন্ত। থাকে ক্যালশিয়ামও। তাই যাঁরা শরীরচর্চা করেন, তাঁদের জন্য এটি উপকারী।

কিন্তু সারা বছর কাঁঠালের বীজ পাবেন কী ভাবে?

মূলত গরমেই কাঁঠাল পাওয়া যায়। তবে কাঁঠালের মরসুম ফুরিয়ে গেলেও তার বীজ দীর্ঘ দিন ভাল ভাবে রেখে দেওয়া সম্ভব। সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করলে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত ভাল থাকে কাঁঠালের বীজ।

কাঁঠালের বীজ দিয়ে নানা রকমের রান্নার চল রয়েছে বাঙালি রান্নাঘরেও।

কাঁঠালের বীজ দিয়ে নানা রকমের রান্নার চল রয়েছে বাঙালি রান্নাঘরেও। ছবি: সংগৃহীত।

কী ভাবে সংরক্ষণ করবেন?

পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন: কাঁঠাল থেকে বীজগুলো বের করে সাদা পাতলা খোসাটি ছাড়িয়ে নিন। এর পর ভাল করে ধুয়ে কড়া রোদে ২-৩ দিন শুকিয়ে নিতে হবে, যাতে ভিতরের আর্দ্রতা সম্পূর্ণ চলে যায়।

কিসে রাখবেন: শুকিয়ে যাওয়া বীজগুলো ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে একটি এয়ারটাইট কাচের বয়াম বা জ়িপলক ব্যাগে ভরে রাখুন। শুষ্ক ও ঠান্ডা জায়গায় রাখলে ৫-৬ মাস অনায়াসে ভাল থাকে।

ফ্রিজিং করলে: আরও বেশি দিন রাখতে চাইলে বীজগুলো গরম জলে সামান্য ভাপিয়ে বা ব্লাঞ্চ করে নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে জ়িপলক ব্যাগে ভরে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। বার বার যাতে খোলাপাড়া না করতে হয়, তাই ছোট ছোট কৌটোয় রাখুন। এক এক বার রান্নার আগে বার করে নিতে হবে। এ ভাবে এক বছর পর্যন্ত তাজা থাকবে কাঁঠাল বীজ।

Sameera Reddy Jackfruit Seeds Jackfruit
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy