আগামী মাসের শেষে ইজ়রায়েল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে কূটনৈতিক ভারসাম্যের কথা মাথায় রেখে আরব বিশ্বের দিকে হাত বাড়াচ্ছে সাউথ ব্লক। কাল দিল্লিতে বসতে চলেছে দ্বিতীয় ভারত-আরব বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলন। উল্লেখ্য দশ বছর পর এটি এই বৈঠকের দ্বিতীয় সংস্করণ। বাইশটি আরব দেশের বিদেশমন্ত্রী পৌঁছেছেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও তাঁদের একাংশের সঙ্গে আজ সেরেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হয়েছে ভারতে আসা প্যালেস্টাইনের বিদেশমন্ত্রী ভার্সেন আঘাবেকিয়ান শাহনিনের সঙ্গে। চব্বিশ ঘণ্টা আগেই তিনি দাবি তুলেছিলেন, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত গাজ়া ভূখণ্ডে বিপুল পুনর্গঠনের কাজে হাত লাগাক নয়াদিল্লি।
গাজ়া শান্তি পরিকল্পনা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভারত-প্যালেস্টাইন উন্নয়ন সহযোগিতা— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর ও আঘাবেকিয়ান। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো নিয়েও কথা হয়েছে। বৈঠকের পরে জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে জানান, ‘প্যালেস্টাইনের বিদেশমন্ত্রী ভার্সেন আঘাবেকিয়ানের সঙ্গে দেখা করা সুখকর অভিজ্ঞতা। গাজ়া শান্তি পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছি এবং ভবিষ্যতে তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি।’ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই দিল্লিতে পৌঁছন আঘাবেকিয়ান। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘দ্বিতীয় ভারত–আরব বিদেশমন্ত্রী বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে এসে পৌঁছেছি। এই সফর প্যালেস্টাইন ও ভারতের অংশীদারিকে আরও দৃঢ় করল এবং আরব বিশ্বের সঙ্গে সহযোগিতার প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করল।’
প্রায় এক দশক পরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালে বাহরাইনে প্রথম ‘ভারত-আরব বিদেশমন্ত্রী বৈঠক’ হয়েছিল। সেই বৈঠকেই অর্থনীতি, শক্তি, শিক্ষা, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি— এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করা হয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকশুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, গোটা পশ্চিমএশিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ায় ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে। গাজ়া শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের অবস্থান ও প্যালেস্টাইনের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে চলেছে, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)