দু’জন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিতে হয়েছিল সম্পর্ক। কোনও কারণে সেই সম্পর্ক ভাঙলে কেউ অন্য কাউকে অপরাধী প্রমাণ করতে ধর্ষণের আইনকে হাতিয়ার করতে পারবে না। বৃহস্পতিবার বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার সতর্কবার্তা, প্রেমে বিচ্ছেদ হলেই ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আইনের অপব্যবহার করা ঠিক নয়।
বিচারপতি বলেন, ‘‘একজন শিক্ষিত ও স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সম্মতিতে সম্পর্কে জড়ালে তাঁকে এটা মানতে হবে যে সম্পর্ক ব্যর্থ হলে অপরাধ প্রমাণ করার জন্য আইনকে প্রয়োগ করা যাবে না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিচ্ছেদ মানেই ফৌজদারি অপরাধ’ নয়। আদালতের মতে এই ধরণের বিষয়গুলিতে সংযম, সংবেদনশীল মন ও দু’জন মানুষের নিজস্বতা ও পছন্দের প্রতি পারস্পরিক সম্মান জানানো উচিত। যে কোনও সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা নিয়েও সচেতন থাকার কথা বলা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, অনেকে বিচ্ছেদ মেনে নিলেও এমন কিছু ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশা প্রভাব ফেলে পরবর্তী পদক্ষেপে। অনেক ক্ষেত্রেই এমন অভিযোগ উঠতে পারে যার নেপথ্যে থাকে ফৌজদারি অপরাধের থেকে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ক্ষোভ। এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতকেও সতর্ক ও বিচক্ষণ থাকতে বলা হয়েছে। বিচারপতির উক্তি, ‘‘এই ধরনের মামলা বিচার ব্যবস্থার উপরে অপ্রাসঙ্গিক বোঝা চাপানো।’’
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, এক জন পুরুষের বিরুদ্ধে এক মহিলার করা অভিযোগ খারিজ করার সময়ে বিচারপতি সম্পর্কে ভাঙন ও ধর্ষণের আইন ব্যবহার প্রসঙ্গে এই নির্দেশ দিয়েছেন। ধর্ষণ ও বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন অভিযোগকারিনী। অভিযোগ ছিল, বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপনের পরে ওই মহিলার উপরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে আদালত বুঝতে পারে অভিযোগকারিনী নিজেই প্রথমে প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি, নির্যাতন-প্রতিবাদের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।