খাবারের দোকানে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের একদল কর্মীর হেনস্থার জেরে আতঙ্কে দোতলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক যুগল। উত্তরপ্রদেশের ওই ঘটনায় এ বার সংশ্লিষ্ট সংগঠনের আট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্তে নামল পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। আরও কারা অপরাধে জড়িত ছিলেন, জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায়। উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলার কান্ত থানা এলাকায় একটি জনপ্রিয় পিৎজ়ার দোকানে খেতে গিয়েছিলেন এক যুগল। দোকানের দোতলায় বসে খাবার আসার অপেক্ষা করছিলেন তরুণ-তরুণী। আচমকা এক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সাত-আট জন কর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা ওই যুগলকে ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেন। নাম, ঠিকানা, জাত, ধর্ম জানতে চেয়ে ক্রমাগত ওই যুগলকে হেনস্থা করে চলা হয় বলে অভিযোগ। সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে কয়েক জন ফোন বার করে যুগলের ভিডিয়ো করতে শুরু করে দেন। তাতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রেমিক-প্রেমিকা। এক পর্যায়ে ছুটে গিয়ে দোতলার জানলা দিয়ে সোজা নীচে ঝাঁপ দেন তরুণী। পিছন পিছন ঝাঁপ দেন তরুণও। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখনও সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
আক্রান্ত তরুণের নাম বিশাল। ২১ বছরের ওই তরুণ সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, তাঁরা খাবারের অপেক্ষায় দোকানে বসেছিলেন। সে সময় হঠাৎ এক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কয়েক জন কর্মী এসে তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি ভিডিয়ো রেকর্ডও করতে শুরু করেন তাঁরা। বিশালের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রবেশ, সোনু এবং হর্ষিত নামে তিন যুবক-সহ মোট আট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানও সংগ্রহ করা হচ্ছে। শীঘ্রই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, শনিবারের ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকানে আকস্মিক তল্লাশি চালানো শুরু করেছে পুলিশ। খাবারের দোকানগুলিকে বদ্ধ কেবিন সরিয়ে ফেলা, পর্দার ব্যবহার কমানো এবং স্বচ্ছ কাচের প্যানেল বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।