উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ল্যাম্বরগিনির ধাক্কায় আহত হলেন অন্তত ছ’জন। রবিবার কানপুরের গ্বলতোলি এলাকায় ভিআইপি রোডের উপরে দুর্ঘটনা ঘটেছে। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন স্থানীয় তামাক ব্যবসায়ী কেকে মিশ্রের পুত্র শিবম মিশ্র। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, জনবহুল রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি ছোটাচ্ছিলেন চালক। সেই সময়েই প্রথমে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাইকে ধাক্কা মারে ল্যাম্বরগিনিটি। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে বাইকআরোহী প্রায় ১০ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। বাইকে ধাক্কা মারার পরে সেটিকে ঘষতে ঘষতে বেশ কিছু দূর নিয়ে যায় গাড়িটি। শেষে রাস্তার ধারে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে থেমে যায় সেটি।
কানপুর পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) অতুলকুমার শ্রীবাস্তব জানান, রেভ-৩ মলের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কেকে মিশ্রের ছেলেই যে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তা-ও জানিয়েছেন ডিসি। তিনি আরও জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গাড়িটি। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতে ধাক্কা মারে সেটি।
রবিবারের ওই দুর্ঘটনার পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ পথচারীরা গাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন। ব্যবসায়ীর পুত্র শিবম গাড়ির ভিতরেই আটকা পড়েন। জানা যাচ্ছে, গাড়িতে শিবমের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরাও ছিলেন। তাঁরা উত্তেজিত জনতাকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গাড়িচালক এবং অন্য আহতদের উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ওই ল্যাম্বরগিনিটিকেও।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, আহতদের মধ্যে তৌফিক নামে এক যুবকও রয়েছেন। গাড়ির ধাক্কায় তিনি কয়েক মিটার দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে। তবে তিনিই ওই বাইকআরোহী ছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাকি আহতদের মধ্যেও কয়েক জনের শরীরের হাড় ভেঙেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অভিযুক্ত গাড়িচালক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় পুলিশ প্রথমে এফআইআর রুজু করতে চাইছিল না, এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। যদিও পরে এই ঘটনায় এফআইআর রুজু হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেফতারির খবর এখনও মেলেনি। বস্তুত, কানপুরের অন্যতম বড় তামাক ব্যবসায়ী মিশ্র। বিভিন্ন পান মশলার সংস্থাকে তামাক সরবরাহ করে থাকে তাঁর সংস্থা। ২০২৪ সালে তাঁর বাড়িতে আয়কর দফতরও হানা দিয়েছিল।