Advertisement
E-Paper

মেঘালয়ের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ, চাপা পড়ে মৃত্যু অন্তত ১৮ শ্রমিকের! অবৈধ ‘ইঁদুর-গর্তে’ই মৃত্যুফাঁদ?

মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকার একটি কয়লাখনিতে বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিকের দেহ সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩০
মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ।

মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ। ছবি: পিটিআই।

মেঘালয়ের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ। চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৮ জন শ্রমিকের। উদ্ধারকাজ চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ ভাবে ‘র‌্যাট হোল’ খনন করে ওই এলাকায় কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছিল। সেখানে কী ভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকার একটি কয়লাখনিতে বৃহস্পতিবার সকালে বিস্ফোরণ ঘটেছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি আই নোংরাং জানিয়েছেন, কয়লাখনিটি বেআইনি ভাবে চলছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের ফলে খনির মুখে ধস নামে এবং সেখান থেকে বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। ডিজি বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত ১৬টি দেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা গিয়েছে। বিস্ফোরণের মুহূর্তে খনির ভিতর মোট কত জন শ্রমিক ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। আরও কয়েক জন ভিতরে আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’’ প্রথমে ১৬টি দেহ উদ্ধার হলেও পরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮।

ঘটনায় আহত এক জন শ্রমিক এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খনি থেকে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলং হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়। পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, শিলঙে জখম শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। খনির কাজ চলাকালীনই বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘র‌্যাট হোল মাইনিং’-এর ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে সরু তিন-চার ফুটের গর্ত খোঁড়া হয়। গর্তগুলি এতটাই সরু হয় যে, এক বারে এক জনের বেশি সেখান দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন না। ওই গর্ত দিয়ে খনিতে নেমে কয়লা উত্তোলন করা হয়। সরু আনুভূমিক এই গর্তগুলিকেই ‘র‌্যাট হোল’ বলা হয়। ২০১৪ সালে মেঘালয়ে ‘র‌্যাট হোল মাইনিং’ বা ‘ইঁদুর গর্ত খনন’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত। এই ধরনের খননকার্যকে ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। পরে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তুলেছে। তবে বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে সব রকম সাবধানতা ও পরিবেশরক্ষামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করে ‘র‌্যাট হোল মাইনিং’ করা যাবে। বৃহস্পতিবার যে স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে খননকার্যের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ে কয়লাখনির ঘটনায় আমি আন্তরিক দুঃখিত। দুর্ভাগ্যজনক এই ঘটনায় যাঁরা প্রিয়জনকে হারালেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে মেঘালয় সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। যাঁরা এর জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে রাজ্য সরকার।’’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মেঘালয়ের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। কয়লাখনিতে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছেন তিনি। জখম শ্রমিকেরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা করে।

Coal Mine meghalaya Rat Hole Mine
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy