Advertisement
E-Paper

ছিল বসতবাড়ি, পাল্টে হয়ে যায় বাণিজ্যিক ভবন! অভিযোগ ছিল বেআইনি নির্মাণেরও, লখনউয়ে কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ধৃত ৪

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ভবনের এসি ডাক্ট থেকেই আগুন ছড়িয়েছিল। ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখে আগামী সাত দিনের মধ্যে সিটকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০৯:৫৪
লখনউয়ের পুড়ে যাওয়া কোচিং সেন্টার।

লখনউয়ের পুড়ে যাওয়া কোচিং সেন্টার। ছবি: পিটিআই।

লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। চার জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ওই ভবনের এক মালিকও রয়েছেন। অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে ওই তিন তলা ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। খাতায় কলমে সেটি একটি আবাসিক ভবন হিসাবে অনুমোদিত। কিন্তু সেখানে কী ভাবে কোচিং সেন্টার এবং অন্য বাণিজিক কাজকর্ম চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় উষা মেহতা মার্গে একটি কোচিং সেন্টারে আগুন লাগে। তাতে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই পড়ুয়া। দুর্ঘটনার পরই ওই তিন তলা ভবনে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। লখনউ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এলডিএ)-র নথি এবং লখনউ পুরসভায় জমা পড়া গৃহ করের নথি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে অনুমোদন ছিল না। একটি আবাসিক ভবন হিসাবে সেটির নকশা অনুমোদিত হয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ওই ভবনটি তিন ভাই— বীরেন্দ্রপ্রসাদ শুক্ল, সুরেন্দ্র শুক্ল এবং ধীরেন্দ্র শুক্লের মালিকানাধীন। তাঁদের মধ্যে বীরেন্দ্রকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, আবাসন হিসাবে ব্যবহারের অনুমোদন থাকা এই ভবনটিকে ২০১৪ সালে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স করে ফেলা হয়েছিল। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ওই ভবনে বেআইনি নির্মাণেরও অভিযোগ উঠেছিল। ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নোটিসও জারি হয়েছিল। যদিও দু’মাসের মধ্যে ওই নোটিস আবার প্রত্যাহারও হয়ে যায়।

বীরেন্দ্রদের আগে এই ভবনটির মালিক ছিল এক দম্পতি। উত্তরপ্রদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনটি প্রথমে ১৯৮০ সালে লটারির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই সময় ভবনটি বরাদ্দ করা হয়েছিল বিজয় কুমারের নামে। ২০০৫ সালে বিজয় এবং তাঁর স্ত্রী ঊষার নামে ভবনটির রেজিস্ট্রেশন হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দম্পতি ওই ভবনটি বিক্রি করে দেন বীরেন্দ্রদের কাছে। এর পর ২০১৪ সালের অগস্টে বীরেন্দ্রদের কাছে ওই ভবনের দলিল হস্তান্তর হয়। জানা যাচ্ছে, ওই সময়ে ভবনটি বসতবাড়ি হিসাবে অনুমোদন পেয়েছিল। তার পরে সেটির চরিত্র বদলে ফেলা হয়।

দলিল হস্তান্তর পরবর্তী সময়ে ওই ভবনে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল বীরেন্দ্রদের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে ২০১৬ সালের ১০ মে নোটিসও জারি হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ভবনের বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। তবে দু’মাস পরে, ৫ জুলাই ওই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কারণ সে সময়ে মালিকপক্ষ যুক্তি দেখিয়েছিল, বিল্ডিং প্ল্যান অনুযায়ীই ওই নির্মাণটি হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর থেকে এমন বিস্তর তথ্য উঠে আসতে শুরু করেছে লখনউয়ের উষা মেহতা মার্গের ওই তিনতলা ভবনকে ঘিরে।

ভবনটিতে নিরাপত্তাজনতি বেশ কিছু ত্রুটির কথাও উঠে এসেছে প্রাথমিক তদন্তে। তিনতলা ওই ভবন থেকে আপদকালীন পরিস্থিতিতে বেরোনোর জন্য কোনও পথ ছিল না। ছাদে যাওয়ার পথটিও বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ। ফলে ধোঁয়া এবং আগুন ভবনে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই পালানোর সুযোগ পাননি। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ভবনের এসি ডাক্ট থেকেই আগুন ছড়িয়েছিল। ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখে আগামী সাত দিনের মধ্যে সিটকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ।

Lucknow Fire
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy