সোনম ওয়াংচুকের গ্রেফতারি মামলায় জবাব দিতে আরও সময় চাইল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সেই আর্জিই জানিয়েছে তারা। কিন্তু তাতে আপত্তি ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর। তাঁর আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করেন, এই বিষয়টি অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না।
গত শুনানিতে গীতাঞ্জলি সুপ্রিম কোর্টে জানান, সোনমের বক্তৃতার ভুল অনুবাদ আদালতে পেশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি পিভি বরালের বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, এই অভিযোগের জবাব দিতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। মেহতা বলেন, “প্রায় ৪০ মিনিটের একটি ভিডিয়ো রয়েছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার আছে।”
লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনমের স্ত্রীর হয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর সওয়াল, কর্তৃপক্ষ কোনও উত্তর দিতে পারেননি। তাই কেন্দ্রকে এ বিষয়ে আর কোনও সময় না দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানান তিনি। সিব্বল সওয়াল করেন, “ওরা (কেন্দ্র) যে হলফনামা দিয়েছে, তাতেও এটি (অভিযোগ) অস্বীকার করা হয়নি। ওই অভিযোগের কোনও জবাব নেই। আমরা একটি অভিযোগ করেছি, পাল্টা হলফনামায় তার উত্তর নেই। অর্থাৎ, হলফনামায় বিষয়টা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।”
সিব্বল আরও বলেন, “আমরা অনুবাদের ফারাক তুলে ধরেছিলাম। তার কোনও জবাব নেই। এটি অনন্তকাল ধরে পারে না। ওদের একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।” দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে অবশ্য আদালত জানায়, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিনই সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য শোনা হবে বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন:
গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে ‘অশান্তিতে মদত দেওয়ার জন্য’ আটক করা হয়েছিল সোনমকে। সেই থেকে এখনও জেলেই বন্দি রয়েছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী। গত সোমবারের শুনানিতে সোনমের বক্তৃতার ভিডিয়ো প্রসঙ্গে উঠে এসেছিল কৃত্রিম মেধা (এআই)-এর প্রসঙ্গ। মামলাকারী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, “আদালতে দাখিল করা ভিডিয়ো-অনুবাদটি দীর্ঘ। উনি (সোনম ওয়াংচুক) যা বলেছেন, তার অন্তত সঠিক অনুবাদ হওয়া উচিত। আমরা এটাই আশা করি।’’
তখন কেন্দ্রের হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কেএম নটরাজ জানান, “সংশ্লিষ্ট বিভাগ অনুবাদটি করেছিল। ওই ভাষা জানা নেই। এআই-এর যুগে অনুবাদগুলি নির্ভুল বলে মনে করা হয়।’’ সিব্বলের পাল্টা সওয়াল ছিল, ‘‘এআই খুব বিপজ্জনক হতে পারে। ওয়াংচুক আসলে কী বলেছেন তা আদালতের খতিয়ে দেখা উচিত।’’