অবশেষে দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করল বর্ষা। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কেরলে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা প্রবেশ করেছে কেরলে। সেখানে গত দু’দিন ধরেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি আরও বাড়বে আগামী কয়েক দিনে। তবে উত্তর ভারতে বর্ষা কবে আসবে, তা নিয়ে এখনও কিছু জানাননি আবহবিদেরা। মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখা হয়েছে।
মৌসম ভবনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমুদ্রের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও খানিকটা এগিয়ে আরব সাগরের বাকি অংশ, লক্ষদ্বীপ এবং সমগ্র কেরলে প্রবেশ করেছে। কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশ, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরেও বর্ষা প্রবেশ করেছে। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ দেশের মধ্যবর্তী আরও কিছুটা অংশে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বর্ষা প্রবেশ করবে। কারণ, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রসরের অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশেও বর্ষা প্রবেশ করবে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদেরা।
আরও পড়ুন:
কেরলে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক সময় ১ জুন। এ বার সেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন দিন দেরিতে বর্ষা ঢুকেছে। কিছু দিন আগে মৌসম ভবন জানিয়েছিল, সময়ের আগে ২৬ মে নাগাদই কেরলে বর্ষা ঢুকে পড়বে। কিন্তু তার পর সমুদ্রের উপর পরিস্থিতি বদলায়। বর্ষার আগমন আরও পিছিয়ে যায়। গত সপ্তাহে আবহবিদেরা জানান, ৪ জুনের মধ্যে বর্ষা কেরলে প্রবেশ করতে পারে। সেই পূর্বাভাস মিলে গেল। মৌসম ভবন জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের উপর ধীরে ধীরে বৃষ্টিভরা মেঘ জমা হয়েছে। ক্রমে শক্তিশালী হয়েছে পশ্চিমা বায়ুও। সমুদ্রতল থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার উপরে এই অনুকূল পরিস্থিতিই বর্ষার আগমন আরও নিশ্চিত করে তুলেছিল। কেরলে আপাতত ভারী বৃষ্টি চলবে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।
দক্ষিণে বর্ষা প্রবেশ করলেও দেশের মধ্য ও উত্তর ভাগে বর্ষা পৌঁছোতে আরও কিছুটা সময় লাগে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে উত্তরে এগোয়। দিল্লিতে ২৭ জুনের আগে বর্ষা প্রবেশ করে না। পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্যে বর্ষা সাধারণত জুনের শেষে কিংবা জুলাইয়ের শুরুতে প্রবেশ করে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলেও এ বারও সেই সময়েই বর্ষা ঢুকবে উত্তরে।