Advertisement
E-Paper

সব ঋতুতেই সড়কপথে যাওয়া যাবে লাদাখ! এক নম্বর জাতীয় সড়কে নতুন সুড়ঙ্গ তৈরির প্রকল্প শুরু করল কেন্দ্রীয় সরকার

শুধু ফোটু লা সুড়ঙ্গের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছে ৮২৪.১২ কোটি টাকা। প্রকল্প শেষ হতে সময় লাগবে তিন বছর। জোড়া সুড়ঙ্গের এক একটি দুই কিলোমিটার দীর্ঘ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৬:১১
ফোটুলা টপ।

ফোটুলা টপ। — ফাইল চিত্র।

সব ঋতুতেই যাতে লাদাখে যাতায়াত করা যায়, তা সুনিশ্চিত করতে আরও তৎপর হল কেন্দ্র। কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফোটু লা পাসে নতুন এক সুড়ঙ্গ তৈরির জন্য ইতিমধ্যে বরাতের দর হেঁকেছে সড়ক পরিবহণ এবং জাতীয় সড়ক মন্ত্রক। এক নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে হবে সেই সুড়ঙ্গ। সেটি তৈরি হলে কাশ্মীরের সঙ্গে লাদাখের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

মে মাসে ফোটু লা সুড়ঙ্গের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফোটু লা এবং জোজিলা সুড়ঙ্গ নির্মাণে খরচ পড়বে প্রায় ৭০০০ কোটি টাকা। আগামী সপ্তাহে জোজিলা সুড়ঙ্গের নির্মাণ প্রায় শেষ হতে চলেছে। ৯ জুন সে জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর। এখনই অবশ্য ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে যাতায়াত সম্ভব হবে না। তবে ১১৩.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের কাজ অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। ২০২৮ সাল নাগাদ এশিয়ার দীর্ঘতম এই সুড়ঙ্গে গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে। জোজিলা এবং ফোটু লা চালু হয়ে গেলে সারা বছর কাশ্মীর থেকে লাদাখে যাতায়াত করা যাবে। শীতকালে তুষারপাতেও সমস্যা হবে না।

শুধু ফোটু লা সুড়ঙ্গের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছে ৮২৪.১২ কোটি টাকা। প্রকল্প শেষ হতে সময় লাগবে তিন বছর। জোড়া সুড়ঙ্গের এক একটি দুই কিলোমিটার দীর্ঘ। সঙ্গে সড়ক জুড়ে এই প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ২.৬৫ কিলোমিটার। শ্রীনগর-কার্গিল-লেহ সড়কে সর্বোচ্চ অংশে গড়ে উঠছে এই সুড়ঙ্গ। উচ্চতা প্রায় ৪,১০৮ মিটার। শ্রীনগরকে কার্গিল এবং লেহর সঙ্গে জুড়তে চলেছে এই সুড়ঙ্গ। ওই সড়কের সবচেয়ে কঠিন অংশেই তৈরি হচ্ছে সুড়ঙ্গটি, যার নির্মাণ খুব একটা সহজ নয়। বছরের অনেকটা সময় ওই অংশ ঢেকে থাকে বরফে। শীতকালে সেখানে পাঁচ থেকে ১০ ফুট উচু বরফ পড়ে। সে কারণে ওই সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল খুব বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সর্বক্ষণ বরফ পরিষ্কারের জন্য লোক নিয়োগ করতে হয়। তা ছাড়া অত উচ্চতায় পাহাড়ের বাঁকগুলি খুব বিপজ্জনক। বরফ পরিষ্কার করলেও ভিজে রাস্তা দিয়ে চলার সময় বাঁক ঘুরতে গিয়ে খাদে পড়ে বহু গাড়ি। শীতকালে অনেক সময়ই ওই সড়কপথে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়।

পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি হলে এ ধরনের সমস্যা মিটবে বলেই মনে করছেন সড়ক পরিবহণ দফতরের আধিকারিকেরা। শীতে প্রচুর বরফ পড়লেও গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হবে না। লেহ্ থেকে কার্গিল যাওয়ার দূরত্বও অনেকটাই কমবে। সেনা, সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি সহজেই পৌঁছে দেওয়া যাবে লাদাখে। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তার পর থেকেই কেন্দ্র উদ্যোগী হয়, যাতে সেখানে নিয়মিত সামরিক সরঞ্জাম, সেনা পাঠানো যায়। এ বার সে ক্ষেত্রে আরও একটি ধাপ এগিয়ে গেল তারা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy