E-Paper

উত্তরপ্রদেশে ২৫০টি আসন জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে এসপি

এসপি ইতিমধ্যেই ব্লক স্তরে ‘পিডিএ’ (পিছড়ে বর্গ, দলিত ও অল্পসংখ্যক) সম্মেলন শুরু করেছে। এসপি-র এক জন শীর্ষস্থানীয় নেতার দাবি, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ছিল, এসপি-র বিরুদ্ধে তা খাটবে না।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১০:০৩
অখিলেশ যাদব।

অখিলেশ যাদব। — ফাইল চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (এসআইআর) কাজে লাগিয়ে যে ভাবে পশ্চিমবঙ্গে ফায়দা তুলেছে বিজেপি, তা তারা উত্তরপ্রদেশে করতে পারবে না বলেই দাবি করছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতৃত্ব। বছর ঘুরলেই উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোট। এসপি-র বক্তব্য, অন্তত ২৫০টি আসন পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রেখে তাদের ভোটকৌশল তৈরি হচ্ছে।

এসপি ইতিমধ্যেই ব্লক স্তরে ‘পিডিএ’ (পিছড়ে বর্গ, দলিত ও অল্পসংখ্যক) সম্মেলন শুরু করেছে। এসপি-র এক জন শীর্ষস্থানীয় নেতার দাবি, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ছিল, এসপি-র বিরুদ্ধে তা খাটবে না। বরং উত্তরপ্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে টানা বিজেপির সরকার ক্ষমতায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধেই মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার সুফল পাবেন অখিলেশ যাদব। এসপি-র সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দের কথায়, “উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের অস্তিত্ব নেই। অনুপ্রবেশের বিষয় বা রাজ্যের সঙ্গে জুড়ে থাকা সীমান্ত অঞ্চলে জনচরিত্র বদলে যাওয়ার ব্যাপারও নেই। বরং এখানকার মুসলিমদের বসবাস সেই মোগল আমল থেকে।’’ তাঁর দাবি, এসআইআর-এ বিজেপিরই ক্ষতি হবে। এসপি-র নিজস্ব সমীক্ষা সেটাই বলছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশে বহু মানুষের দু’টি করে ভোটার কার্ড রয়েছে— একটি শহরে ও একটি গ্রামে। গত ৮-৯ বছরে বহু মানুষ গ্রাম থেকে শহরে চলে এসেছেন, দু’জায়গাতেই তাঁদের কার্ড রয়েছে। কিন্তু এসপি-র দাবি, এঁরা বেশির ভাগই বিজেপির সমর্থক, যোগী আদিত্যনাথের শাসনে স্থানীয় নেতাদের মদতে যা করার করেছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলে, ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে তাঁদের একটি করে কার্ড যেন বাদ যায়, সে জন্য ঝাঁপাবে এসপি। কিরণময়ের কথায়, “এসআইআর নিয়ে তৃণমূল স্তরে আমরা কাজ করেছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে এক জন বিএলও-র সঙ্গে এক জন বিএলএ দিয়ে দিয়েছি।”

আড়াইশো আসন পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রার ব্যাখ্যায় এসপি-র এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, “২৪-এর লোকসভা ভোটে আমরা ৩৭টি আসন পেয়েছিলাম, আমাদের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেস জিতেছিল ৬টিতে। কিন্তু কংগ্রেস যে আসন পেয়েছে তা তাদের নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং আমাদের বিধায়কদের সহায়তায়।’’ ওই নেতার মন্তব্য, ‘‘রায়বরেলী কেন্দ্রের পাঁচ জন বিধায়কের মধ্যে চার জনই ছিলেন এসপি-র। সেই হিসাবে ৪৩টি লোকসভা আসনকে বিধানসভায় রূপান্তরিত করলে দাঁড়াচ্ছে ২১৫টি আসন— যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।’’ এসপি-র নেতাটির দাবি, যোগী আদিত্যনাথ ও অমিত শাহের সংঘাত লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে ডুবিয়েছিল। আর এ বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পরে হাত শক্ত হয়েছে শাহের। অর্থাৎ, বিজেপির অভ্যন্তরীণ সংঘাত আরও বাড়তে চলেছে।

বিধানসভা ভোটের জোট নিয়ে এখনও আলোচনা শুরু হয়নি। কিন্তু জোট হলেও কংগ্রেসকে ৩০ থেকে ৪০টির বেশি আসন দেওয়া হবে না বলেই জানাচ্ছেন কিরণময়। তাঁর কথায়, “আগের ভোটগুলিতে কংগ্রেস কতটা সফল হয়েছে, সেটা দেখতে হবে। ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে কংগ্রেস ১০৫টি আসন চেয়ে নিয়েছিল, জিতেছিল ৫টিতে। আর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশের ১৭টি আসন নিয়ে তারা ৬টিতে মাত্র জিতেছে।’’

কিরণময় বলেন, ‘‘কংগ্রেসকে বেশি আসন দেওয়ার প্রশ্নই নেই। বরং ফুলপুর, ফারুকাবাদের মতো যে আসনগুলিতে এসপি অল্প ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়েছিল, এ বার সেই আসনগুলিতে বেশি নজর দিচ্ছি আমরা।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Samajwadi Party Uttar Pradesh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy