উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন উত্তরপ্রদেশে বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গার। উন্নাও ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের উপরে দিল্লি হাই কোর্ট শর্তসাপেক্ষে যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, শুক্রবার তা খারিজ করল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাটি নতুন করে শুনানির জন্য ফের দিল্লি হাই কোর্টে পাঠানো হয়েছে। ফলে এখনই কারামুক্তি হচ্ছে না বিজেপির প্রভাবশালী এই নেতার।
উন্নাও-কাণ্ডে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের উপরে দিল্লি হাই কোর্ট গত বছর ডিসেম্বরে শর্তসাপেক্ষে স্থগিতাদেশ দেয়। দিল্লি হাই কোর্টের এই নির্দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় নানা মহলে। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।
সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে শুনানির পরে শুক্রবার হাই কোর্টের নির্দেশের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ তাদের রায়ে জানায়, কারাদণ্ড ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে সেঙ্গারের মূল আবেদনের নিষ্পত্তি হাই কোর্টকে আগামী দু’মাসের মধ্যে করতে হবে। সেই সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হলে গ্রীষ্মকালীন অবকাশের আগেই সেঙ্গারের সাজা স্থগিতের আবেদন পুনর্বিবেচনা করে নতুন করে আদেশ দিতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের পুরনো মন্তব্য যেন প্রভাব না ফেলে, এ দিন সেই কথাও জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
সিবিআইয়ের তরফে শুনানিতে জানানো হয়, ঘটনার সময় কুলদীপ সেঙ্গার বিধায়ক ছিলেন এবং সেই অর্থে তিনি সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তিনি যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, সেটা বড় মাপের অপরাধ। পাল্টা কুলদীপের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, মামলার নথি অনুযায়ী ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন না। যদিও কুলদীপের আইনজীবীর সেই দাবি খারিজ করে দেয় সিবিআই। সিবিআই আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়েছিল, বিধায়ককে সরকারি কর্মী হিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ধারা দেওয়া সম্ভব নয়। এ দিন সু্প্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দিল্লি হাই কোর্টের ওই যুক্তিকে সমর্থন করেনি।
২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত ২০১৯ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারকে। ওই মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের উপরে চাপ সৃষ্টি, হেনস্থার অভিযোগ এবং নির্যাতিতার বাবার মৃত্যু গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মামলায় একাধিক অভিযোগের তদন্তে নামে সিবিআই। যেখানে নির্যাতিতার বাবার মৃত্যুর ঘটনায় এক পৃথক মামলায় ২০২০ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ড হয় কুলদীপের। চলতি বছরের শুরুতে সেই মামলাতেও কুলদীপের সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)