আইএসএলের ডার্বির আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে চমকপ্রদ দৃশ্য যুবভারতীতে। পাশাপাশি দুই মাঠে একই সময়ে অনুশীলন করতে নামল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল। দু’টি মাঠের মাঝখানে লোহার জালের বেড়া ঢেকে রাখা কালো কাপড়ে। যাতে কেউ কারওঅনুশীলন দেখতে না পায়।
মাঠে নেমেই থমথমে হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুসোর মুখ। কালো কাপড়ের মধ্যে দিয়ে দেখা যাচ্ছে শত্রুপক্ষের অনুশীলন। অতীতে অধিকাংশ ডার্বির আগে রণকৌশল ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় অস্কার যুবভারতীতে প্রস্তুতি নেওয়ার ঝুঁকিই নিতেন না। দলে নিয়ে চলে যেতেন নিউ টাউনে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের উৎকর্ষ কেন্দ্রে। কিন্তু শুক্রবার বিকেলেসেই সুযোগ ছিল না।
অস্কার কিন্ত দমে যাননি। ফিজ়িক্যাল ট্রেনারকে নির্দেশ দিলেন মাঠের অন্য প্রান্তে ফুটবলারদের নিয়ে গিয়ে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অনুশীলন করাতে। বিকেল ৫.১০ নাগাদ প্রস্তুতি শেষ করে মোহনবাগানের কোচ ও ফুটবলারেরা মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ঢুকে যাওয়ার পরেই আসল অনুশীলন শুরু করলেন তিনি। মাঠের বাইরে তখন উন্মাদনা তুঙ্গে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের।
মোহনবাগান কোচ সের্খিয়ো লোবেরার মতো অস্কারও চিন্তিত সুযোগ তৈরি করেও গোল নষ্টের প্রবণতায়। যুবভারতীতে আগের ম্যাচে পঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলও গোলশূন্য ড্র করেছিল। জিততে না পারার জন্য গোল নষ্টকেই দায়ী করেছিলেন তিনি। শুক্রবারের অনুশীলনে তাই অস্কার সব চেয়ে বেশি জোর দিলেন গোল করার মহড়ায়। দুই প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে উঠে বিপিন সিংহ, পি ভি বিষ্ণু এবং মিগুয়েল ফিগুয়েরা ক্রমাগত সেন্টার এবং মাইনাস করে গেলেন পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থাকা ইউসেফ এজ়েজ্জারি ও অ্যান্টন সোজ়বার্গের উদ্দেশে। দুই স্ট্রাইকারের কাজ ছিল বল গোলের মধ্যে রাখা।
অস্কারের মতো গোল না হওয়া নিয়ে চিন্তা করতে রাজি নন বিপিন। বলে দিলেন, ‘‘এ রকম হয় অনেক সময়। ভাল খেলেও গোল পাওয়া যায় না। তাই চিন্তিতহওয়ার কারণ নেই।’’ গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় ডার্বিতে ড্র করলেও সুবিধে ইস্টবেঙ্গলের। বিপিন বলে দিলেন, ‘‘জেতা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না।’’ এর পরে জেমি ম্যাকলারেন, দিমিত্রি পেত্রাতস, জেসন কামিংসদের জন্য মোহনবাগানকে অনেকে এগিয়ে রাখছেন শুনেই বিপিনের হুঙ্কার, ‘‘ডার্বিতেইদেখা যাবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)