ডার্বির জন্য ফুটবলারদের তরতাজা রাখতে শুক্রবার বিকেলে মাত্র ৪৫ মিনিট অনুশীলন করিয়েছেন মোহনবাগান কোচ সের্খিয়ো লোবেরা। ফুটবলারদের দু’দলে ভাগ করে অর্ধেক মাঠে মিনিট কুড়ি ম্যাচ খেলান। অভিষেক সিংহ অবশ্য তার আগেই মাঠ ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন। যদিও মোহনবাগান দল পরিচালন সমিতির দাবি, অভিষেকের কোনও সমস্যা নেই। অনুশীলন ম্যাচে কখনও দিমিত্রি, কখনও আবার জেসন কামিংসের সঙ্গে জুটি বেঁধে নিজেকে নিংড়ে দিলেন জেমি ম্যাকলারেন। অনুশীলন শেষ হওয়ার পরেও গোল লক্ষ্য করে একাই একের পর এক শট মারছিলেন তিনি।
গত মরসুমে আইএসএলের দু’টি ডার্বিতেই গোল করেছিলেন ম্যাকলারেন। চলতি মরসুমে এখনও পর্যন্ত তিন বার মুখোমুখি হয়েছে দুই প্রধান। একটিতেও গোল পাননি ম্যাকলারেন। ইন্টার কাশীর সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পরে সমর্থকদের একাংশের বিদ্রুপেরও শিকার হয়েছিলেন তিনি।
যুবভারতীতে ১৭ মে কি ফের দেখা যাবে ম্যাকলারেন জাদু? শুক্রবার দুপুরে কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে দুই প্রধানেরই বাণিজ্যিক সহযোগী কিংফিশার ডার্বি নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। মোহনবাগানের তরফে ম্যাকলারেন ছাড়াও ছিলেন অধিনায়ক শুভাশিস বসু এবং গোলরক্ষক বিশাল কেথ। ইস্টবেঙ্গল থেকে গিয়েছিলেন অ্যান্টন সোজ়বার্গ, বিপিন সিংহ এবং এডমুন্ড লালরিনডিকা। অনুষ্ঠানের পরে ম্যাকলারেন বললেন, ‘‘এক জন স্ট্রাইকার হিসেবে আমি সব ম্যাচেই গোল করতে চাই। তবে আমার কাছে সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল দলের জয়। গোল করলে অবশ্যই আনন্দ হবে। তবে গোল না পেলেও দুঃখ থাকবে না যদি দল জেতে।’’ তার পরেই যোগ করলেন, ‘‘ডার্বি নিয়ে আমি প্রচণ্ড উত্তেজিত। এই ম্যাচে স্টেডিয়ামের পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে যায়। যা আমাদের ভাল খেলতে উজ্জীবিত করে।’’
যুবভারতীতে শুক্রবার সন্ধেয় ডান পায়ের হাঁটুতে বরফ বেঁধে ম্যাকলারেনকে ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে আসতে দেখে কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন মোহনবাগান সমর্থকেরা। রবিবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বিতে খেলতে পারবেন তো অস্ট্রেলীয় বিশ্বকাপার? এই ম্যাচের উপরেই যে নির্ভর করছে আইএসএলে মোহনবাগানের ভবিষ্যৎ। জিততে না পারলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে। কারণ, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও গোল পার্থক্যে পিছিয়ে আছে গত বারের চ্যাম্পিয়নরা। ভক্তদের উদ্দেশে হাত তুলে ম্যাকলারেন আশ্বাসের ভঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন, ডার্বির জন্য তিনি তৈরি।
আইএসএলে শেষ তিনটি ম্যাচে মোহনবাগান গোল করেছিল দু’টি। ১-০ জয় নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। তার পরে এফসি গোয়ার সঙ্গে ১-১ ড্র। ইন্টার কাশীর সঙ্গে গোলশূন্য ছিল ম্যাচ। কোথায় সমস্যা হচ্ছে? ম্যাকলারেনের ব্যাখ্যা, ‘‘আমাদের বিরুদ্ধে দলগুলি রক্ষণভাগ শক্তিশালী করে খেলছে। ওদের প্রধান লক্ষ্যই থাকছে আমাদের আক্রমণ থামিয়ে দেওয়া। আমি মনে করি, এই নিয়ে বিচলিতহওয়ার কারণ নেই।’’
অস্কার ব্রুসো কি শুনলেন জেমি ম্যাকলারেনের হুঙ্কার?
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)