ধবধবে সাদা পায়রা, দু’টো ডানা লালচে। ঝটপটিয়ে উড়ে সেই ‘শান্তির দূত’ বসেছিল পুরীর উপকূলে এক মৎস্যজীবীর ট্রলারে। খেলাচ্ছলে তাকে ধরতে যেতেই খুলে গেল রহস্য। দেখা গেল, পায়রার পায়ে বাঁধা রয়েছে গোপন ক্যামেরা। গায়েও লেখা সাঙ্কেতিক বার্তা। পায়রা ধরতে যাওয়া বিচক্ষণ মৎস্যজীবী দ্রুত বুঝে নেন বিপদ। শান্তির দূতের আড়ালে ‘অশান্তি’র আন্দাজ করেই সঙ্গে সঙ্গে একটি কলো টেপ দিয়ে মুড়ে দেন ক্যামেরার মুখ। বুধবার ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দরে পৌঁছে পায়রাটিকে পারাদ্বীপের উপকূল পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।
সোমবারের ঘটনা। পুরীর কোনারক এলাকার রামচণ্ডী সৈকতের কাছে সারথি নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে এসে বসেছিল পায়রাটি। ট্রলারে মালিক যে মাছ ব্যবসায়ী, তিনিই পায়রাটি প্রথম দেখেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পায়রাটির গায়ে লাল এবং নীল কালিতে সাঙ্কেতিক বার্তা লেখা ছিল। সেই সাঙ্কেতিক বার্তার ভাষা বুঝতে পারলেও তার পাঠোদ্ধার করতে পারেননি তিনি। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মৎস্যজীবী বলেন, ‘‘লাল কালিতে চিনা ভাষায় এবং নীল রঙে উর্দুতে কিছু লেখা ছিল পায়রাটির গায়ে। কিন্তু কী লেখা ছিল তা বোঝা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’’
বুধবার পায়রাটি হাতে পাওয়ার পর তার পায়ে বাঁধা ক্যামেরা পরীক্ষা করে মেরিন পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ওই ক্যামেরাটি একটি জিপিএস যন্ত্রও। কোথা থেকে কারা ওই পায়রাটি কী উদ্দেশ্য নিয়ে পাঠিয়েছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।