চারপাশে বরফে মোড়া পাহাড়। আর মাঝে ঘন সবুজ ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ উপত্যকা। এ সবের বুক চিরে চলে গিয়েছে সর্পিল পাহাড়ি রাস্তা। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস পরে অবশেষে পর্যটকদের জন্য ফের খুলে দেওয়া হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের বডগাম জেলার এই দুধপাথরি উপত্যকা। পহেলগাম পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রাও। অন্য দিকে, সম্প্রতি লাদাখে আয়োজিত হয়েছিল ‘প্যানগং ম্যারাথন ২০২৬’। যাতে অংশ নিয়েছেন সারা দেশের ৪৫০-রও বেশি প্রতিযোগী।
বিধিনিষেধ শিথিল হতেই দুধপাথরি উপত্যকায় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন পর্যটকেরা। আর তাতেই বেজায় খুশি এলাকার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। ঠিক যেমন, ইফতিকার দার। বেশ কয়েকটি ঘোড়া রয়েছে তাঁর। ঘণ্টার হিসেবে পর্যটকদের ঘোড়ায় চাপিয়ে পুরো এলাকা ঘুরিয়ে দেখালে মেলে নগদ অর্থ। কিন্তু পহেলগামে সন্ত্রাসবাসী হানার পরে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল তাঁর ব্যবসা। কিন্তু ফের পর্যটকদের আগমনে আশার আলো দেখছেন ইফতিকার। বলছিলেন, ‘‘আমি আজ কতটা খুশি, ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। বিগত কয়েক মাসে আমাদের জীবিকা বলে কিছু ছিল না। অবশেষে দুধপাথরিতে পর্যটকেরা আসছেন। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ..!’’ জানালেন, বিগত প্রায় ১০ মাসে পরিবার এবং ঘোড়ার খাবার জোগাতে ধার করতে হয়েছিল তাঁকে। কার্যত একই অবস্থা আরেক পর্যটন ব্যবসায়ী মুখতার আহমেদ চেচিরও। বলছিলেন, ‘‘ধার করে প্রতিদিনের সংসার চলছিল। আশা করি এ বার সেই ধার শোধ করতে পারব।’’
গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হানার পর কাশ্মীর উপত্যকার প্রায় ৪৮টি পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের পথে হেঁটেছিল সরকার। অন্য দিকে, বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে জম্মু ও কাশ্মীরকে এড়িয়ে চলছিলেন পর্যটকেরাও। সব মিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন উপত্যকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তবে সময়ের সঙ্গে ফের ভূস্বর্গে ফিরেছিলেন পর্যটকেরা। রাজ্যের পর্যটন দফতরের একটি সূত্র জানাচ্ছে, গত জানুয়ারি মাসে অন্তত এক লক্ষ পর্যটক জম্মু ও কাশ্মীরে বেড়াতে এসেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রাজ্যের উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিংহ দুধপাথরি-সহ ১৪টি পর্যটন কেন্দ্র পুনরায় খোলার কথা ঘোষণা করেছেন।
অন্য দিকে, সম্প্রতি লাদাখে হয়ে গেল ‘প্যানগং ম্যারাথন ২০২৬’-ও। টানা দু’দিন ধরে বরফে ঢাকা প্যানগং হ্রদের উপর বসেছিল এই ম্যারাধন দৌড়ের আসর। ভারত-চিন সীমান্ত লাগোয়া পূর্ব লাদাখে ১৪ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় এ হেন ম্যারাথনের আয়োজন ভূ-রাজনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণপদক্ষেপ বলেই মনে করছেন অনেকে। পাঁচ, ১০, ২১, এবং ৪২ কিলোমিটার— এই চার বিভাগেভাগ করা হয়েছিল পুরো প্রতিযোগিতাকে। প্রসঙ্গত, এ ক্ষেত্রে ৪২ কিলোমিটার দৌড়কেই ‘পূর্ণ ম্যারাথন’ বলে গ্রাহ্য করা হয়। জানা গিয়েছে, এ বারের এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ৪৫০-র বেশি প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)