E-Paper

রূপান্তরকামী বিল প্রত্যাহার চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি কোর্টের কমিটির

‘নালসা’ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কেউ নিজেকে কোন লিঙ্গের মানুষ মনে করবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কমিটি জানিয়েছে, নয়া বিলে এই স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার অধিকার খারিজ ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:১০
রূপান্তরকামী ব্যক্তি সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সমর্থকেরা। নয়াদিল্লিতে।

রূপান্তরকামী ব্যক্তি সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সমর্থকেরা। নয়াদিল্লিতে। ছবি: পিটিআই।

সংসদে সদ্য পাশ হওয়া ‘রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ প্রত্যাহার করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করল সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত উপদেষ্টা কমিটি। কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমারকে চিঠি লিখে কমিটির চেয়ারপার্সন, দিল্লি হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আশা মেনন বলেছেন, নতুন বিলে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে নিজের লিঙ্গপরিচয় ঘোষণার অধিকার যে ভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের ২০১৪ সালের ‘নালসা বনাম ভারত সরকার’ মামলার রায়ের পরিপন্থী।

সূত্রের খবর, চিঠিতে বিচারপতি মেনন লিখেছেন, রূপান্তকামীদের মূল স্রোতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াসকে বড় ধাক্কা দিয়েছে সংশোধনী বিলটি। প্রসঙ্গত, রূপান্তরকামীদের জন্য সমান সুযোগ ও তাঁদের অধিকারের সুরক্ষা সংক্রান্ত ২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় আইনটির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিচারপতি মেননের নেতৃত্বে গত বছর আট সদস্যের এই কমিটি গড়েছিল শীর্ষ কোর্ট। সেই কমিটির তরফেই নয়া বিলের কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রকে সেটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছেন চেয়ারপার্সন।

বিরোধীদের আপত্তি উড়িয়ে এই মাসেই সংসদের দুই কক্ষে সংশোধনী বিলটি পাশ করিয়েছে কেন্দ্র। বিলটি আইন হয়ে গেলে কেউ আর স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে নিজেকে রূপান্তরকামী বলে ঘোষণা করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে তাঁকে মেডিক্যাল বোর্ডের শংসাপত্র জমা দিতে হবে। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে ব্যক্তিপরিচয়ের স্বাতন্ত্র্য ও গোপনীয়তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে। কারণ, যাঁরা নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মেছেন অথবা অস্ত্রোপচার করে পুরুষ বা নারী হয়েছেন, নয়া সংশোধনীর ফলে শুধুমাত্র তাঁরাই হয়তো রূপান্তরকামী হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। আর এই সংজ্ঞার বাইরে অনেকেই বাদ পড়বেন, যাঁরা জন্মগত লিঙ্গপরিচয়কে অস্বীকার করেছেন। নয়া বিলে বলা হয়েছে, লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রের তরফে জেলা প্রশাসনের কাছে অস্ত্রোপচারের খতিয়ান পেশ করতে হতে পারে। অর্থাৎ পুরোটাই সরকারের নজরে থাকবে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতেই জেলাশাসকশংসাপত্র দেবেন।

‘নালসা’ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কেউ নিজেকে কোন লিঙ্গের মানুষ মনে করবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কমিটি জানিয়েছে, নয়া বিলে এই স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার অধিকার খারিজ ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। আইন পাল্টাতে হলে রূপান্তরকামী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরেই যেন তা করা হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

LGBTQ+ Supreme Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy