দু’বছর আগে নরেন্দ্র মোদী সরকার নতুন ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন’ এনে কমিশনারদের সারা জীবনের জন্য যে কোনও রকম ফৌজদারি ব্যবস্থা থেকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল। কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছিল, এই রক্ষাকবচের ভরসাতেই এখন নির্বাচন কমিশনাররা ‘ভোট চুরি’ করছেন। আজ খোদ সুপ্রিম কোর্ট মোদী সরকারের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন সংবিধানের কষ্টিপাথরে যাচাই করে দেখার সিদ্ধান্ত নিল।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ আজ এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছেন, ‘‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনের এই ব্যবস্থার ফলে কোনও ক্ষতি হচ্ছে কি না এবং সংবিধানে কোনও ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখব।’’
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তথা বিরোধী শিবির এই আইনে নির্বাচন কমিশনারদের বাছাইয়ের কমিটিতে প্রধান বিচারপতিকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
অসরকারি সংগঠন লোক প্রহরী এই আইনের বিরুদ্ধে মামলা করে সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দিয়েছিল, অবসরের পরেও নির্বাচন কমিশনারদের ফৌজদারি প্রক্রিয়া থেকে আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। দেশের রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালরাও এমন আইনি রক্ষাকবচ পান না। সংসদে এই বিল নিয়ে আলোচনার সময়েই সরকার বলেছিল যে, এই বিল কাজের শর্তের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু আইনি রক্ষাকবচ কাজের শর্তের মধ্যে পড়ে না। এর ফলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষতি হচ্ছে— মামলাকারীরা এই আইনে অবিলম্বে স্থগিতাদেশ জারির আর্জি জানালেও সুপ্রিম কোর্ট তাতে রাজি হয়নি।
এর আগে কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুরও এই আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে যে রায় দিয়েছিল, এই রায় তার বিরোধী। কিন্তু তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না নিজেকে মামলার শুনানি থেকে সরিয়ে নেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)