স্বল্পমেয়াদি কমিশনের পরে স্থায়ী কমিশনের আবেদন নাকচ হওয়ায় শীর্ষ কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সেনার কয়েক জন মহিলা অফিসার। আজ সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে’ তাঁদের ‘মনোবল না ভাঙতে’। বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চ ওই ৬৯ জন মহিলা সেনা অফিসারের মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে অগস্টে। তত দিন পর্যন্ত তাঁদের কাজ থেকে না সরাতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, “এই উজ্জ্বল অফিসারদের অন্য কোনও জায়গায় কাজে লাগাতে পারেন। এটা তাঁদের সুপ্রিম কোর্টে চক্কর কাটতে বলার সময় নয়। দেশের সেবার জন্য তাঁদের তার থেকে ভাল জায়গায় থাকার কথা।”
আজ আদালতে কেন্দ্রের তরফে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি বলেন, এটি বাহিনীকে তরুণ রাখার জন্য নীতি অনুযায়ী একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। ওই মহিলা অফিসারদের অব্যাহতি দেওয়ার ব্যাপারে যাতে স্থগিতাদেশ দেওয়া না-হয়, সেই আবেদন করে তিনি বলেন, সেনার তরুণ অফিসার প্রয়োজন এবং প্রতি বছর মোটে আড়াইশো জনের স্থায়ী কমিশন অনুমোদন করা হয়ে থাকে।
আবেদনকারী কর্নেল গীতা শর্মার আইনজীবী মনিকা গুরুস্বামী এই প্রসঙ্গে কর্নেল সোফিয়া কুরেশির উদাহরণ তুলে ধরেন। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে সেনার তরফে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন যে দুই মহিলা অফিসার, সোফিয়া তাঁদের এক জন। মনিকা বলেন, সোফিয়াকেও স্থায়ী কমিশন সংক্রান্ত একই রকমের আবেদন নিয়ে শীর্ষ কোর্টে আসতে হয়েছিল এবং এখন তিনিই দেশকে গর্বিত করছেন। তবে দুই বিচারপতির বেঞ্চ এই বিষয়ে বেশি কিছু না বলে জানিয়েছে, , এই মামলা শীর্ষ আদালতের কাছে নিখাদ আইনি বিষয়। অফিসারদের কৃতিত্বের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ কোর্ট বলেছিল, স্টাফ অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়া সেনার অন্য সমস্ত পদ থেকে মহিলাদের পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই এবং আইনি ভাবে গ্রহণযোগ্যও নয়। সেই সময়ে কোর্ট বাহিনীর অন্যান্য ক্ষেত্রেও মহিলাদের স্থায়ী কমিশনে নিয়োগ করতে বলেছিল। কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, সেটা না হলে সেনায় কর্মজীবনের অগ্রগতির সুযোগ হিসেবে স্থায়ী কমিশনের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়। সেই সূত্রেই তখন কর্নেল কুরেশির উদাহরণ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
২০২০ সালের ওই রায়ের পরেও শীর্ষ আদালত সেনার তিনটি বাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীতে মহিলা অফিসারদের স্থায়ী কমিশনের বিষয়ে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)