Advertisement
E-Paper

গৃহসহায়কদের ন্যূনতম বেতনের আবেদন শুনল না সুপ্রিম কোর্ট! পর্যবেক্ষণ: দেশের বহু কারখানা বন্ধের দায় শ্রমিক সংগঠনগুলির

দেশে যে শ্রমিক-শোষণ হয়, তা মেনে নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি কান্ত। তবে একই সঙ্গে তাঁর পর্যবেক্ষণ, দেশের বিভিন্ন শিল্পের বিকাশে অন্যতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৫
দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। গৃহসহায়কদের ন্যূনতম বেতন স্থির করে দেওয়ার আর্জি খারিজ করে দিল তাঁর বেঞ্চ।

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। গৃহসহায়কদের ন্যূনতম বেতন স্থির করে দেওয়ার আর্জি খারিজ করে দিল তাঁর বেঞ্চ। — নিজস্ব চিত্র।

গৃহসহায়কদের জন্য ন্যূনতম বেতন নিশ্চিত করার আর্জি শুনতে চাইল না সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দেশের আইনসভাগুলিকে টপকে এমন নির্দেশ দেওয়া যায় না। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, দেশের বহু কারখানা বন্ধ হওয়ার দায় অনেকাংশে বর্তায় শ্রমিক সংগঠনগুলির উপরেই।

গৃহসহায়কদের ন্যূনতম বেতন বেঁধে দেওয়ার দাবিতে তাদের একটি সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ লক্ষ গৃহসহায়কের ‘দুর্দশা’র কথা মেনে নিয়েও সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এমন কোনও আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ার করার ক্ষেত্রে আইনসভার এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না আদালত। ফলে বর্তমান আইন সংশোধন করার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে কোনও নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।

আবেদন প্রত্যাহার করার সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এ-ও জানিয়েছে, দেশে শিল্পের বিকাশ বিঘ্নিত হওয়ার জন্য মূলত দায়ী শ্রমিক সংগঠনগুলিই। প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, “শ্রমিক সংগঠনগুলির জন্য দেশের কত শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে জানেন? গোটা দেশে বিভিন্ন শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে এই ‘ঝান্ডা’ সংগঠনগুলির জন্যই।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, “শোষণ হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু তা মোকাবিলার উপায়ও আছে। সাধারণ মানুষকে তাঁর নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন করা উচিত। আরও দক্ষ করে তোলা উচিত। অনেক সংস্কার করা উচিত।”

দেশে শ্রমিকদের শোষণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির এ-ও পর্যবেক্ষণ, দেশের শিল্পের বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। মামলাকারী পক্ষকে তিনি বলেন, “আপনারাই বলুন, কতগুলি শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংগঠন রেখে সফল ভাবে কর্মী নিয়োগ করতে পেরেছে?” কেন গৃহসহায়কদের ন্যূনতম বেতনের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট, সেই ব্যাখ্যাও দেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, “এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে দেশের প্রতিটি বাড়িকে আইনি লড়াইয়ে জুড়ে দেওয়া হবে। যখনই ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করার কথা হবে, তখন এই শ্রমিক সংগঠনগুলিই প্রতিটি পরিবারকে মামলা-মোকদ্দমার জালে জড়িয়ে ফেলবে।”

Domestic Help Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy