ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হলেন দুই মাওবাদী। ছত্তীরগঢ়ের বিভিন্ন প্রান্তে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। সেই অভিযান চলাকাকালীন বৃহস্পতিবার সকালে খবর আসে, বিজাপুরের একটি জঙ্গলে একদল মাওবাদী জড়ো হয়েছে। সেই খবর পেয়েই জেলার দক্ষিণ প্রান্তে অভিযান আরও জোরদার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ডিস্ট্রিক্ট রিজ়ার্ভ গার্ড (ডিআরজি) এবং পুলিশের একটি যৌথবাহিনী ওই জঙ্গলে তল্লাশি অভিযানে যায়। সেই সময় মাওবাদীদের দলটি বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা গুলি চালায় বাহিনীও। দু’পক্ষের মধ্যে সকাল ৭টা থেকে গুলির লড়াই শুরু হয়। বেশ কিছু ক্ষণ গুলির লড়াই চলে। সেই সংঘর্ষে দুই মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দু’টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। মাওবাদীদের খোঁজে ওই জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। মাওবাদীরা সংখ্যায় কত জন ছিলেন তা স্পষ্ট জানা যায়নি। মৃত দুই মাওবাদীর দেহের পাশ থেকে একে ৪৭ রাইফেল, ৯ এমএম পিস্তল, বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি বিজাপুরেই ৫২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জনের মাথার মোট দাম ছিল ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ১৩ জন মহিলা। ৫২ জনের এই মাওবাদী দলটি মূলত দণ্ডকারণ্য স্পেশ্যাল জ়োনাল কমিটি, অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা সীমা ব্রহ্মগড় এরিয়া কমিটির সদস্যেরা। বিজাপুর পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র কুমার যাদব জানিয়েছেন, সিআরপিএফ এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, গত বছর ছত্তীসগঢ়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ২৮৫ জন মাওবাদী নেতা-কর্মী নিহত হয়েছিলেন। চলতি বছরে ৩ জানুয়ারি বস্তার ডিভিশনে দু’টি পৃথক সংঘর্ষে ১৪ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছিল। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শাহের মন্ত্রকের তরফে ‘মাওবাদী দমন’ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। তাতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জমানায় গত ১০ বছরে যৌথবাহিনীর অভিযানে মোট ১৮৬১ জন মাওবাদী নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬৩৩৬-এর বেশি মাওবাদীকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ৯৫৮৮ জন। ২০২৪ সালে অগস্ট মাসে শাহ প্রতিশ্রতি দেন ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ মাওবাদী মুক্ত করবেন। তার আগেই বহু মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। সংঘর্ষে আবার অনেক মাওবাদীর মৃত্যুও হচ্ছে।