রাজ্যসভায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের রসিকতায় হেসে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। বুধবার সংসদের উচ্চকক্ষে ৩৭ জন সাংসদের ছ’বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেডিএস নেতা তথা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়াও। তাঁর সম্পর্কে বলতে উঠেই খানিক লঘু চালে রসিকতা করেন খড়্গে।
রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খড়্গে বলেন, “আমি দেবগৌড়াকে ৫৪ বছর ধরে চিনি। আমি ওঁর সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। পরে জানি না কী হল। উনি আমাদের সঙ্গে প্রেম করলেন। কিন্তু বিয়ে করলেন মোদীকে।” খড়্গে পুরো বাক্য শেষ করার আগেই রাজ্যসভার সদস্যেরা হেসে ফেলেন। খড়্গের পিছনেই বসে থাকা কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশকে হাসতে দেখা যায়। হেসে ফেলেন প্রধানমন্ত্রীও।
মনে করা হচ্ছে, রসিকতার আড়ালে দেবগৌড়ার দলের জোট বদলের দিকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন খড়্গে। এক সময় কর্নাটকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছিল জেডিএস-এর। এখন অবশ্য দেবগৌড়ার দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-র শরিক। এমনকি দেবগৌড়ার পুত্র তথা কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী মোদী মন্ত্রিসভার সদস্যও।
বুধবার যে ৩৭ জন সাংসদ রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ করলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়ে উচ্চকক্ষে ফিরবেন। ফিরবেন কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, এনসিপি (এসপি)-র শরদ পওয়ার। কারণ তাঁরা পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বার্ধক্যজনিত কারণে নবতিপর দেবগৌড়ার সংসদীয় জীবনে দাঁড়ি পড়ে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।
বুধবার রাজ্যসভায় বিদায়ী সাংসদদের অবদানের কথা স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রীও। নতুন সাংসদদের দেবগৌড়া কিংবা খড়্গের মতো প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার পরামর্শও দেন তিনি। মোদী বলেন, “এইচডি দেবগৌড়া, মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং শরদ পওয়ার তাঁদের জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় সংসদীয় কাজে ব্যয় করেছেন। নতুন সাংসদেরা তাঁদের কাছ থেকে শিখুন।”