বিয়ের আসরে ধূমকেতুর মতো উদয় হলেন বরের প্রাক্তন প্রেমিকা। ফোনে রেকর্ড করা কথোপকথন শুনিয়ে ও চ্যাটের প্রমাণ দেখাতেই বিয়ের আসরে পড়ে গেল হুলস্থুল। তর্কবিতর্ক ও বাগ্বিতণ্ডায় উত্তপ্ত হল বিয়ের আসর। ভেস্তে গেল বিয়ে। বুধবার মধ্যপ্রদেশের দিন্দোরির ঘটনা। সেই ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ঠিক বর-কনের মালাবদলের সময় এক তরুণী এসে হাজির হন। তাঁর নাম অবন্তী টেকাম। মণীশ নামের পাত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি তোলেন তরুণী। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে অবন্তীর দাবি শুনেই তর্কাতর্কি বেধে যায় অবন্তী ও মণীশের। প্রমাণস্বরূপ ফোন বার করে অবন্তী ভয়েস মেসেজ ও চ্যাট খুলে উপস্থিত অতিথিদের দেখাতে শুরু করেন। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে তরুণীর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরের বেশে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ। বাদানুবাদে বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর যায় পুলিশে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা বর, তাঁর বাবা ও প্রেমিকাকে থানায় নিয়ে যায়। আচমকা এই গোলোযোগের কারণে বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা যায়নি। পরদিন সকালে বরযাত্রী কনেকে ছাড়াই ফিরে আসেন। কনের বাবা চন্দ্রকান্ত মাথেশের অভিযোগ, মণীশ যে আগে থেকেই সম্পর্কে ছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন যে, অবন্তী ও মণীশ বেশ কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে জানতে পেরে তিনি মেয়ের বিয়ে দেননি। ‘রাজএক্সপ্রেস’ নামের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে।
অবন্তী জানান, ২০২০ সালে জবলপুরে পড়াশোনা করার সময় ভুল নম্বরে ফোন করার সূত্রে তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয়। বেশ কয়েক বছর তাঁদের ফোনেই যোগাযোগ ছিল। পরে দিন্দোরিতে সামনাসামনি দেখা করেন দু’জনে। সেই সম্পর্ক প্রেমের দিকে গড়ায় বলে জানিয়েছেন তরুণী। তিনি আরও দাবি করেন যে, চলতি বছরের শুরুতে মণীশ তাঁকে জানিয়েছিলেন পরিবার তাঁর বিয়ের আয়োজন করছে। হঠাৎ করেই মণীশ তাঁর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। প্রেমিকের বিয়ের খবর পেয়ে তিনি ঝোঁকের মাথায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এটা তিনি বুঝতে পারেননি।