Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

দেশ

Anand Giri: বিলাসিতা, যৌন হেনস্থা… মহন্তের মৃত্যুতে অভিযুক্ত গুরু আনন্দের ‘গুণের তালিকা’ বেশ লম্বা

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:২১
গত সোমবারই অখিল ভারতীয় আখাড়া পরিষদ-এর মুখ্য গুরু নরেন্দ্র গিরির অকস্মাৎ মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। দেশ জুড়েই এই নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়। আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি। সুইসাইড নোটে এক মহিলার সঙ্গে তাঁর ছবি বিকৃতি করে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিলেন নরেন্দ্র। এর পিছনে তাঁরই উত্তরসূরি আনন্দ গিরির হাত রয়েছে বলে উল্লেখও করেন।

আনন্দ গিরিও এক জন প্রভাবশালী গুরু। সুইসাইড নোটে তাঁর নাম রয়েছে শুনে অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। কিন্তু পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও অবাক করা তথ্য। সামনে এসেছে আনন্দের বিলাসী জীবনের নানা তথ্য।
Advertisement
রাজস্থানের বিলওয়াড়ার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম আনন্দের। তাঁর আসল নাম অশোক চোটিয়া। হরিদ্বারের এক আশ্রমে ঠাঁই হয়েছিল তাঁর। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটানোর এর চেয়ে আর ভাল উপায় তাঁর কাছে ছিল না সে সময়। সেই আশ্রমেই ১২ বছরের অশোককে মনে ধরে গিয়েছিল গুরু নরেন্দ্রর।

অশোকের নিরীহ মন ছুঁয়ে গিয়েছিল নরেন্দ্রকে। গুরু নরেন্দ্রর হাত ধরেই ১২ বছরের সেই বালক হরিদ্বার থেকে প্রয়াগরাজ রওনা দিলেন। প্রয়াগরাজের বাঘমবারি মঠে থাকার ব্যবস্থা হল তাঁর। ২০০৭ সালে এলেন শ্রী পঞ্চায়তি আখাড়া নিরঞ্জনিতে। এখানেই থাকতেন গুরু নরেন্দ্র। তাঁর ছত্রছায়ায় ঝড়ের গতিতে উত্থান হতে শুরু করে অশোকের।
Advertisement
অল্প সময়ের মধ্যেই ওই আশ্রমে সকলের কাছে ‘ছোট মহারাজ’ হয়ে উঠেছিলেন। গুরু নরেন্দ্র ছিলেন বড় মহারাজ এবং তিনি ছোট। পুত্র স্নেহে আস্তে আস্তে নিজের জমি ছেড়ে দিচ্ছিলেন গুরু নরেন্দ্র। তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে অশোকের নাম প্রায় লেখা হয়েই গিয়েছিল।

অশোক তখন হয়ে উঠেছিলেন গুরু আনন্দ গিরি। সংস্কৃতে স্নাতক, বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আয়ুর্বেদ, বেদ নিয়েও পড়াশোনা করা আনন্দ যোগ তন্ত্রেও উচ্চশিক্ষিত। যোগ তন্ত্রে পিএইচডি করেছেন তিনি। সেই সূত্রে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকও পেতেন। নেটমাধ্যমেও অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ফলে খুব সহজেই বিশ্ব জুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এক দিকে যখন জনপ্রিয়তার শিখরে উঠতে শুরু করেছিলেন আনন্দ, সেই সময়ে আশ্রমে তাঁকে নিয়ে নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করে। সন্ন্যাসী হয়েও বাড়ির লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ ওঠে। আশ্রমের টাকা নয়ছয় করারও অভিযোগ ওঠে।

আনন্দের বিলাসিতা সকলের নজরে পড়তে শুরু করেছিল। দামি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, বিমানে মদের গ্লাস নিয়ে ছবি তোলা— এ সব একেবারেই পছন্দ হচ্ছিল না কারও। তাঁর অবশ্য ব্যাখ্যা ছিল মদ হিসাবে যা বলা হচ্ছিল সেটি বিশুদ্ধ আপেলের রস ছিল। এর উপর আবার ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। দুই মহিলা যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে।

গুরু নরেন্দ্র শিষ্যের এই সমস্ত কীর্তি জানার পর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননি। বাঘামবারি মঠ এবং নিরঞ্জনি আখড়া থেকে বার করে দেন তাঁকে। মন্দিরেও তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেন। এর পরই গুরু-শিষ্যের সম্পর্কে চিড় ধরে।

গুরু নরেন্দ্রর বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত মন্তব্য করতে শুরু করেন তিনি। নেটমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে নিজের সমস্ত অনুগামীদের গুরু নরেন্দ্রর বিরুদ্ধে উস্কাতে শুরু করেন। কয়েক জনের হস্তক্ষেপে সে সময় গুরু-শিষ্যের মনোমালিণ্যের অবসান ঘটে। ফের আখড়া এবং মঠে প্রবেশ হয় আনন্দের।

কিন্তু তার পরই নাকি বদলার খেলা শুরু করেন আনন্দ। গুরু নরেন্দ্রকে নানা ভাবে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন। মহিলার সঙ্গে তাঁর বিকৃত করা ছবি-ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করেছিলেন। গুরু নরেন্দ্রর সুইসাইড নোটে এই ঘটনারই উল্লেখ রয়েছে।

সুইসাইড নোট মেলার পরই আনন্দকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আপাতত বিলাসিতা ছেড়ে হাজতবাস করছেন তিনি।