E-Paper

জাতীয় স্তরে তৃণমূলের কৌশল কংগ্রেস-নৈকট্য

বিরোধী রাজনীতিতে গত পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় বদল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৯:০৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ‘সার্বিক অনিয়মের’ অভিযোগ তিনি দিল্লিতে নিয়ে যেতে চান বলে গত সপ্তাহে দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে কংগ্রেস-সহ ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চকে শামিল করার প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের খবর, সেই সমন্বয় তথা বিভিন্ন সমমনস্ক বিরোধী দলের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে দিয়েছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এখনও পর্যন্ত ঠিক রয়েছে, আগামী মাসে দিল্লিতে বসতে পারে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক। তৃণমূলের তরফে একটি বিষয় দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বা বাইরে রেখে কিছু করা হবে না’।

বিরোধী রাজনীতিতে গত পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় বদল। বিশেষ করে ২০২১-এর বিধানসভা জয়ের পর থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরে কংগ্রেসের পাশাপাশি, সমান্তরাল অবস্থান নিয়েছিল মমতার দল। এমনকি, ২৪-এর লোকসভা ভোটের পর রাহুল গান্ধী যখন লোকসভার বিরোধী দলনেতা হলেন তার পরেও। অখিলেশ যাদবের এসপি, অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আপ, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা(ইউবিটি), তেজস্বী যাদবের আরজডি-র সঙ্গে সখ্য বাড়িয়ে এক দিকে ‘জিঞ্জার গোষ্ঠী’ তৈরি করে কক্ষ সমন্বয়ের রাজনীতি করতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলকে। অন্য দিকে, কংগ্রেস সম্পর্কে প্রকাশ্যেই ‘অ্যালার্জি’ দেখানো হয়েছে, দিনের পর দিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সংসদীয় কক্ষে ডাকা বিরোধী সমন্বয়ের বৈঠকে না গিয়ে বা সংসদীয় শীর্ষ নেতাদের না পাঠিয়ে।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস সম্পর্কে তৃণমূলের মনোভাব ১৮০ ডিগ্রি বদল দেখা যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে রাজনৈতিক সূত্র। প্রসঙ্গত, নির্বাচন চলাকালীন প্রচারে রাহুল তৃণমূলকে তীব্র নিশানা করলেও, ফলাফলের পরের দিনই তিনি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। যা এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের কাছ কিছুটা অক্সিজেনের মতো।

আপাতত জাতীয় স্তরে প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে সমস্ত বিরোধীর সঙ্গে একজোট হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ‘নির্বাচনী অনিয়মকে’ সামনে নিয়ে আসার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। তবে তামিলনাড়ুতে সদ্য মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসা তলপতি বিজয় কী অবস্থান নেবেন সে ব্যাপারে সন্দিহান তারা। ফলে আপাতত বিজয়কে হিসেবের বাইরেই রাখা হচ্ছে। আগামী বছরের গোড়ায় পঞ্জাবে নির্বাচন থাকায় আপ নেতা কেজরীওয়ালও ঘরোয়া ভাবে তৃণমূলকে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে একাসনে বসে দিল্লিতে বিরোধী রাজনীতি করা তাঁর দলের পক্ষে সম্ভব নয়। একই ভাবে ডিএমকে-ও এখন তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিরোধী আসনে, ফলে ‘ইন্ডিয়া’য় স্ট্যালিনের দলের থাকা সম্ভব নয়।

তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, বাকি সব দলের সঙ্গেই কথাবার্তা শুরু হয়েছে দিল্লিতে বৈঠকের জন্য। তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট নেতার কথায়, কংগ্রেস কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিল। অন্য দিকে, অখিলেশের পরিবারে মৃত্যুর (ভাই প্রতীক যাদব) কারণে কিছুটা থমকে ছিল রাজনৈতিক আলোচনা। ওমর আবদু্ল্লা এবং হেমন্ত সোরেন— এই দুই বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী সতত যোগাযোগে রয়েছেন বলে দাবি তৃণমূলের। সব মিলিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ঝালিয়ে নিতে আগ্রহী মমতা। তাঁর দলের বক্তব্য, কংগ্রেস-সহ বাকি দলগুলিরও তাতে মত রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Congress TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy