অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী (অলঙ্কার ও রত্ম) চুরির ঘটনায় আট জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হল বৃহস্পতিবার। ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান-পর্ব শেষে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। তার পরে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়,
‘সিট’-এর তদন্তকারীরা দফায় দফায় অযোধ্যার রামমন্দির চত্বরে পরিদর্শন করে অছি পরিষদের সদস্য (ট্রাস্টি) এবং মন্দিরের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণমোহন পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের লখনউ জ়োনের এডিজি প্রবীণ কুমার বৃহস্পতিবার জানান, এফআইআর-এ যাঁদের নাম অভিযুক্ত হিসাবে রয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্র। লবকুশ এবং অনুকল্প মন্দিরে দান হিসেবে পাওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও নথিভুক্তির কাজে যুক্ত ছিলেন। অন্য দিকে, রামশঙ্কর আগে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইয়ের গাড়িচালক ছিলেন এবং ২০২২ সাল থেকে মন্দির নির্মাণ ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত করা হয় তাঁকে।
আরও পড়ুন:
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের ‘সিট’-এ রয়েছেন লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ, লখনউ রেঞ্জের আইজি কিরণ এস, এবং অর্থ বিভাগের বিশেষ সচিব নীল রতন। মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব সঞ্জয় প্রসাদকে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন তাঁরা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদন জানাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ বৃহস্পতিবার সকালে সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছেন। কারণ তিনি গত দু’দিন তিনি লখনউতে ছিলেন না। সূত্রের খবর, প্রাথমিক রিপোর্টে ১৭ জন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে তারা। এ ছাড়াও দেড়শোর কাছাকাছি মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত সেবাদারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে এঁদের অনেকেরই সম্পদ কয়েক গুণ বেড়েছে। সম্পত্তি বৃদ্ধির তালিকায় নাম উঠে এসেছে ফুলকান্ত মিশ্র নামে মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির। যিনি ‘রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র’-এর সাধারণ সম্পাদক তথা ভিএইচপি-র সহ-সভাপতি চম্পতের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।