Advertisement
E-Paper

মা হয়ে বলছি, যদি দোষ করে থাকে ওকে ফাঁসি দিন: সিয়ার মা! হাহাকার গয়াল পরিবারেও

পুণের ব্যবসায়ীর পুত্র কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ জুন লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে পড়ে মারা যান কেতন। অভিযোগ, তাঁকে ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেওয়া হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ২২:১৫
সিয়া গয়ালের মা।

সিয়া গয়ালের মা। ছবি: এক্স।

সিয়া গয়াল যদি দোষ করে থাকেন, তবে তাঁর কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। এ বিষয়ে নিজের মেয়ে বলে কোনও ছাড় দিতে রাজি নন তাঁর মা। বৃহস্পতিবার একটি সংবাদমাধ্যমকে সে কথাই জানিয়েছেন তিনি। সিয়ার বাবা অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। তিনিও একই কথা বলেছেন। কেতন অগ্রবালের খুনের নেপথ্যে সিয়ার দোষ প্রমাণিত হলে মেয়ের ফাঁসিই চাইবেন, জানিয়েছেন সিয়ার বাবা প্রবীণ গয়াল।

পুণের ব্যবসায়ীর পুত্র কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বাগ্‌দান পর্বও সারা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ জুন লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে পড়ে মারা যান কেতন। অভিযোগ, তাঁকে ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দিয়েছেন বাগ্‌দত্তা সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী। তিন বছর ধরে চেতনের সঙ্গে সিয়া প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। দু’জনেই আপাতত পুলিশি হেফাজতে।

সিয়ার মা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমার মেয়ে যদি দোষ করে থাকে, ওর কঠিন শাস্তি পাওয়া উচিত। যদি সত্যিই ও দোষী হয়, ওকে ফাঁসি দিন। মা হয়ে আমি এ কথা বলছি।’’ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সিয়ার বাবা প্রবীণ বলেন, ‘‘যা হয়েছে, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। ওঁরা ওঁদের সন্তানকে হারিয়েছেন। ওঁদের ছেলে আমাদেরও ছেলে ছিল। ওকে খুব ভালবাসতাম। এত প্রাণবন্ত একটা ছেলে চলে গেল! এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হতে পারে না।’’ এর পরেই নিজের কন্যার কথা বলেন প্রবীণ। তাঁর কথায়, ‘‘সিয়া কখনও এই বিয়েতে আপত্তি করেনি। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে ও খুশিই ছিল। আমরা কিছু বুঝতেই পারিনি। এই ঘটনায় যে বা যারা দোষী, সেটা যদি আমার মেয়েও হয়, তার ফাঁসি হওয়া উচিত।’’ উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন সিয়ার বাবা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিয়ার ভাই এবং মা তাঁর কাছেই সবসময় থাকছেন। পুণেয় তাঁদের বাড়িটি তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

অভিযোগ, বাগ্‌দান সারার পরেও কেতনকে বিয়ে করতে চাইছিলেন না সিয়া। তাই প্রেমিকের সঙ্গে মিলে খুনের পরিকল্পনা করেন। প্রাথমিক ভাবে কেতনের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলেই মনে করেছিল পুলিশ। কিন্তু মৃতের পরিবারের সন্দেহ হওয়ায় আর বিশদ তদন্তের দাবি করা হয়। তার পরেই খুনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এই সংক্রান্ত প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশি হেফাজতে একে অপরকে দোষারোপ করছেন সিয়া, চেতন। চেতনের দাবি, আদৌ তিনি কেতনকে খুন করতে চাননি। বরং, সিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সিয়াই খুনের জন্য জোরাজুরি করেন। আবার সিয়ার দাবি, খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন চেতনই। প্রথম বারের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর চেতন কান্নাকাটি করেছিলেন বলেও জেরায় জানিয়েছেন সিয়া। পুলিশের বক্তব্য, নিজেদের বাঁচাতে তাঁরা একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে চেতনের পরিবার অবশ্য দাবি করেছে, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।

Pune Murder Case Maharashtra Pune Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy