Advertisement
E-Paper

খুনের কথা প্রথম কার মাথায় আসে? পুলিশের সামনে বসে একে অপরকে দোষারোপ করে চলেছেন সিয়া-চেতন

পুণের কাছে লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে গত ১৮ জুন খাদে পড়ে যান কেতন। প্রথমে পুলিশ একে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই মনে করেছিল। পরে গ্রেফতার করা হয় বাগ্‌দত্তা সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতনকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৮:১৩
(বাঁ দিক থেকে) সিয়া গয়াল, কেতন অগ্রবাল, চেতন চৌধরী।

(বাঁ দিক থেকে) সিয়া গয়াল, কেতন অগ্রবাল, চেতন চৌধরী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পুণের ব্যবসায়ীর পুত্র কেতন অগ্রবালকে খুন করার কথা প্রথম কার মাথায় এসেছিল? কেতনের বাগ্‌দত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীর বয়ানে অসঙ্গতি পাচ্ছে পুলিশ। অভিযোগ, তাঁরা একে অপরকে এই খুনের জন্য দোষারোপ করে চলেছেন। এক জন দাবি করছেন, তিনি খুন করতে চাননি। বরং ভালবাসার মানুষের সঙ্গে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। আবার অন্য জন দাবি করছেন, খুনের কথা তিনি ভাবেননি। পুলিশের দাবি, দু’জনেই ধাক্কা দিয়েছিলেন কেতনকে।

পুণের কাছে লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে গত ১৮ জুন খাদে পড়ে যান কেতন। বাগ্‌দত্তার সঙ্গে দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ একে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই মনে করেছিল। কিন্তু কেতনের পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করে। কিছু দিনের মধ্যেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। কেতনের মৃত্যুর পাঁচ দিনের মাথায় ২৩ জুন খুন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সিয়া এবং চেতনকে। বর্তমানে তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশ জানতে পেরেছে, গত তিন বছর ধরে চেতনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন সিয়া। তার পরেও কেতনের সঙ্গে বাগ্‌দান সারেন ১৯ ফেব্রুয়ারি। তাঁদের বিয়ের জন্য দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। অভিযোগ, এই পর্বে পর পর তিন বার কেতনকে খুনের চেষ্টা করেন সিয়া ও তাঁর প্রেমিক। শেষ বার সফল হন। তবে খুনের ঘটনা যে প্রকাশ্যে চলে আসবে, সারা দেশে যে তাঁদের কাণ্ড আলোচিত হবে, ভাবতে পারেননি দু’জনের কেউ। তাই গ্রেফতারির পরে তাঁরা একে অপরকে দোষারোপ শুরু করেছেন।

তদন্তকারীদের চেতন জানিয়েছেন, সিয়ার সঙ্গে তিনি পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। খুনের পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। কিন্তু সিয়াই খুনের জন্য জোরাজুরি করেছিলেন। আবার, সিয়া তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, কেতনকে খুনের মূল পরিকল্পনা করেন চেতনই। গত ১৪ জুন খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চেতন কান্নাকাটি করেছিলেন বলেও জেরায় দাবি করেছেন সিয়া।

তদন্তকারীদের মতে, একে অপরকে দোষারোপ করে নিজেদের বাঁচাতে চাইছেন দুই অভিযুক্ত। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘ওঁরা একে অপরের উপর খুনের ষড়যন্ত্রের দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। বোঝাই যাচ্ছে, এটা আত্মপক্ষ সমর্থনের কৌশল। আসলে ওরা দু’জনেই ষড়যন্ত্র করেছিলেন, আমাদের কাছে তার একাধিক প্রমাণ আছে। চেতন দাবি করেছেন, তিনি পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু সিয়া খুন করতে জোর করেন। সিয়া দাবি করেছেন, কেতনকে খুনের পরিকল্পনা প্রথম বার ব্যর্থ হওয়ায় চেতন কান্নাকাটি করেছিলেন।’’

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গত ৩১ মে থেকে ৪ জুনের মধ্যে পুণের একটি ক্যাফেতে দেখা করেছিলেন চেতন এবং সিয়া। আধিকারিকের কথায়, ‘‘সেখানে কী হয়েছিল, আমরা খতিয়ে দেখছি। ওটা ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল কি না, দেখা হচ্ছে।’’

Pune Maharashtra Pune Police Murder Case

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy