শহরে বড় ঘটনা বা বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানাগুলির সঙ্গে লালবাজারের সমন্বয়ের অভাব দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। শুধু লালবাজার নয়, স্থানীয় ডিভিশনাল কন্ট্রোল রুমের সঙ্গেও সমন্বয় বজায়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান করতে বৃহস্পতিবার চার দফা নির্দেশ জারি করেছেন সিপি। অবিলম্বে সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করতে বলেছেন।
লালবাজার জানিয়েছে, যে কোনও বড় ঘটনা, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার সঙ্গে বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম এবং লালবাজারের দ্রুত যোগাযোগ জরুরি। যত দ্রুত তথ্য সরবরাহ করা হবে, তত দ্রুত পুলিশ পদক্ষেপ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি কিছু ঘাটতি দেখা গিয়েছে। সিপির চার দফার নির্দেশে বলা হয়েছে—
- বড় কোনও ঘটনা, বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর প্রভাব পড়তে পারে এমন কোনও ঘটনা ঘটলে, সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইন-চার্জকে (ওসি) সময় নষ্ট না করে লালবাজারের কন্ট্রোল রুম এবং বিভাগীয় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ঘটনার খবর দিতে হবে সঙ্গে সঙ্গে।
আরও পড়ুন:
- এই ধরনের খবর পেলে লালবাজার কন্ট্রোল রুম অবিলম্বে ঘটনার রিপোর্ট পাঠাবে সংশ্লিষ্ট সমস্ত শীর্ষ আধিকারিককে। তাঁরা সেই সময় কর্তব্যরত থাকুন বা না-থাকুন, ছুটিতে থাকলেও তাঁদের কাছে রিপোর্ট পৌঁছে যাওয়া চাই। এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংস্থা-সহ সব পক্ষের কাছেই রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
- একই ভাবে, স্থানীয় থানা থেকে খবর পেয়ে বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট পৌঁছে দেবে বিভাগীয় ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) কাছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ঘটনার অগ্রগতির সমস্ত খবরাখবরও পৌঁছে দিতে হবে ধারাবাহিক ভাবে।
- সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিককে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে যা করা দরকার, করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই নির্দেশ কেউ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিপি।
সম্প্রতি তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। ওই ঘটনায় দমকলের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিল কলকাতা পুলিশও। পরে উদ্ধারে সহায়তার জন্য ডাকা হয় ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ জনকে। ৪ জুলাই পর্যন্ত তাঁদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, দমকলের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তার পরেই সিপির এই নির্দেশিকা এল।