Advertisement
E-Paper

তারাতলা বিপর্যয়ে ফিরহাদের সেই ‘ডান হাত’কে ধরল পুলিশ, শুভেন্দুর নিশানার পরেই আটক কালীচরণ, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পুরসভায় কালী না-বললে কোনও প্ল্যান (পাশ) হয় না।’’ তার পর রাতেই সেই কালীকে আটক করা হল। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ২০:১৯
(বাঁ দিকে) কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে নিশানা করেছিলেন। পুরো নাম উচ্চারণ না করলেও শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পুরসভায় কালী না-বললে কোনও প্ল্যান (পাশ) হয় না।’’ তার পর রাতেই সেই কালীকে আটক করা হল। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

শুভেন্দু পরিচয় স্পষ্ট না করলেও কলকাতা পুরসভায় কালী পরিচিত নাম। ফিরহাদের ‘ডান হাত’ তিনি। রাজ্য সরকারি কর্মচারী কালীচরণ একসময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে চাকরি করতেন। পরে আমলা হিসাবে প্রশাসনে যোগ দেন। ২০১৮ সালের শেষ দিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর কলকাতার মেয়র হন ফিরহাদ। তখনই পুরসভায় কালীচরণের প্রবেশ। ফিরহাদের ওএসডি ছাড়াও সাংসদ তহবিল এবং বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের কন্ট্রোলিং অফিসার ছিলেন কালীচরণ। অভিযোগ, ফিরহাদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পুরসভায় তাঁর প্রভাব ছিল। তাঁর অনুমোদন না পেলে শহরের কোনও নির্মাণকাজ এগোতে পারত না।

বুধবার তারাতলায় যে নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়েছে, তাতে কলকাতা পুরসভার অনুমোদন ছিল। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানান, ওই গুদামের অনুমোদনপত্রে সই ছিল খোদ ফিরহাদের। পুরসভার ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সেই সূত্রেই কালীচরণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নির্মাণটির নকশা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এমনকি, নির্মাণের আগে মাটিও পরীক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ। কী ভাবে ত্রুটিপূর্ণ নকশায় ছা়ড়পত্র দেওয়া হল, প্রশ্ন উঠেছে। কালীকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

তারাতলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৯ জনকে। তাঁরা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করেছে পাঁচ জনকে। তাঁদের মধ্যে চার জনের নামই এফআইআর-এ ছিল। জানা গিয়েছে, গুদামটির জমি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছরের জন্য লিজ় নিয়েছিল বেহরা ব্রাদার্স নামের একটি সংস্থা। তার মালিক শম্ভুনাথ বেহরাও গ্রেফতার হয়েছেন। সাধারণত, লিজ় নেওয়া জমিতে কোনও নির্মাণকাজের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। সূত্রের খবর, এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নির্মাণে আপত্তি করেননি। ঘটনাচক্রে, কলকাতা বন্দর আবার ফিরহাদের বিধানসভা এলাকা। নির্মাণে সিন্ডিকেটরাজের অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ।

সংক্ষেপে
  • বুধবার দুপুরে তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গুদাম আচমকাই ভেঙে পড়ে। সেই গুদাম তৈরির কাজ করছিলেন বেশ কয়েক জন শ্রমিক।
  • দুর্ঘটনার কারণে ভেঙে পড়া গুদামের ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে পড়েন তাঁরা।
  • তারাতলা বিপর্যয়ে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকারই একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
Taratala Kolkata Police FirhadHakim

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy