পশ্চিমবঙ্গের ধূপগুড়ির মতো ত্রিপুরাতেও আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হবে। কিন্তু সেই ভোটে প্রার্থী দেওয়া থেকে বিরতই থাকছে তৃণমূল। তৃণমূলের তরফে ত্রিপুরার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দবাজার অনলাইনকে বলেন, ‘‘আমরা এখন সংগঠন গড়ে তোলার দিকে নজর দিচ্ছি। তাই এই উপনির্বাচনে প্রার্থী না-দেওয়ার ব্যাপারে দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরে বাংলার বাইরে সংগঠনের বিস্তার ঘটাতে চেয়েছিলেন। গোয়া বিধানসভার পর ত্রিপুরাতেও ঝাঁপিয়েছিল বাংলার শাসকদল। আগরতলা-সহ বেশ কয়েকটি পুর নির্বাচন দিয়ে শুরু করেছিল তৃণমূল। কিন্তু গত বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয় জোড়াফুল শিবিরের। তার পর থেকে ত্রিপুরায় আর সে ভাবে তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। কয়েক সপ্তাহ আগে ত্রিপুরার তৃণমূল রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন পীযূষকান্তি বিশ্বাস। এখন ত্রিপুরায় তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিও নেই। সেই পদে লোক খুঁজে বার করাও দলের কাছে একটা বড় কাজ।
ধনপুর ও বক্সনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে ত্রিপুরায়। ধনপুর থেকে বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন বিজেপির প্রতিমা ভৌমিক। প্রতিমা এখন লোকসভার সাংসদ তথা কেন্দ্রের মন্ত্রী। জিতে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সাংসদ পদ রেখে দেন গেরুয়া শিবিরের এই নেত্রী। সেই কারণে ধনপুরে উপনির্বাচন হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ভোটে ধনপুর দখল করা ছিল বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার এই কেন্দ্র থেকেই জিততেন। ২০১৮ সালে প্রতিমাকে হারিয়ে জিতেছিলেন মানিক। সে বার সরকার বদল হওয়ার পর মানিককে বিরোধী দলনেতা করেছিল সিপিএম। গত ভোটে অবশ্য মানিক লড়েননি। দলের অনুরোধ সত্ত্বেও ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা। মানিক সরতেই ধনপুর জিতে নেয় বিজেপি। বক্সনগর কেন্দ্রটি ছিল সিপিএমের দখলে। বিধায়ক সামসুল হকের মৃত্যুর কারণে সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
তৃণমূলের নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, ত্রিপুরায় উপনির্বাচনে দল প্রার্থী দিলে বিজেপির সুবিধা করে দিতে পারে। সেটা হলে লোকসভার আগে বিজেপি-বিরোধী পরিসরে তৃণমূল সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। তা ছাড়া, ত্রিপুরায় প্রার্থী না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে সিপিএম-কংগ্রেসকে ‘ইন্ডিয়া’র বার্তা দেওয়া হবে বলেও মনে করছেন তৃণমূলের নেতারা।
গত ফেব্রুয়ারিতে হওয়া ভোটে ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় বিজেপি-আইপিএফটি জোট জিতেছিল ৩২টি আসনে। তিপ্রা মথা একক ভাবে পায় ১৩টি আসন। সিপিএম-কংগ্রেস জোট পায় ১৪টি আসন (সিপিএম ১১টি, কংগ্রেস তিনটি)। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, মথার ভোট কাটাকাটির জন্য অন্তত ১৯টি আসন হারাতে হয়েছে সিপিএম-কংগ্রেসকে। সেই সময়ে ত্রিপুরা সিপিএমের নেতারা প্রকাশ্যেই বলতেন, মুখে বড় বড় কথা বললেও বিজেপিকে সাহায্য করে দিয়েছে মথা। যদিও উনির্বাচনে মথাকে পাশে পেতে মরিয়া সিপিএম। ইতিমধ্যে সিপিএমের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর সঙ্গে মথার নেতা অনিমেষ দেববর্মার বৈঠক হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মথা কী করবে তা সোমবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের এই প্রার্থী দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে ত্রিপুরায় আদৌ সুবিধা করে দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।