উত্তরপ্রদেশের পরে বিহার। অক্সিজেন বিভ্রাটের পর রক্ত কেলেঙ্কারি। দ্বারভাঙা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া রক্ত দেওয়ায় দু’সপ্তাহে আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। হাসপাতালটির ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা রক্তের প্যাকেটের গায়ে ছাপানো মেয়াদের তারিখ এবং ব্যাচ নম্বর বদলে দিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে বিহার সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
রক্ত দেওয়ার পর রোগী আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং তার পরে মৃত্যু হচ্ছে। দ্বারভাঙা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই রকম ঘটনা গত দু’সপ্তাহে পর পর ঘটছিল বলে জানা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনায় প্রবল উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল হাসপাতাল চত্বরে। মৃতের পরিজনদের হাতে জুনিয়র ডাক্তারদের এবং হাসপাতাল কর্মীদের আক্রান্ত হতে হয়েছিল। আজ, শুক্রবার কয়েক জন জুনিয়র ডাক্তার ব্লাড ব্যাঙ্কের অনিয়ম নিয়ে মুখ খোলেন। তার পরই সামনে এসেছে মারাত্মক অভিযোগটা।
আরও পড়ুন: স্কুলের শৌচালয়ে ক্লাস টু’র ছাত্রের গলাকাটা দেহ
সূর্য প্রকাশ নামে এক জুনিয়র ডাক্তার নিউজ ১৮-কে বলেছেন, ‘‘রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই যখন রোগীদের মৃত্যু হচ্ছিল, তখন ক্ষিপ্ত লোকজন আমাদের উপরেই চড়াও হচ্ছিলেন। তাড়াতাড়িই আমরা বুঝতে পারলাম যে কিছু একটা গোলমাল আছে, কারণ আমরা দেখলাম অপেক্ষাকৃত ভাল অবস্থায় থাকা এক রোগীকে রক্ত দেওয়া শুরু করার কিছুক্ষণ পর থেকেই তিনি অস্থির হয়ে উঠছেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে রক্ত দেওয়া বন্ধ করি এবং ওই রোগী বেঁচে যান।’’
আরও পড়ুন: দিল্লিতেও কঙ্কাল কাণ্ড, বিজ্ঞানীর পচা, গলা দেহ উদ্ধার
নীরজ সিংহ নামে এক জুনিয়র ডাক্তার নিউজ ১৮-কে একটি রক্তের প্যাকেটও দেখিয়েছেন, যাতে পেন দিয়ে লিখে মেয়াদ ফুরনোর তারিখ বদলে দেওয়া হয়েছে।
দ্বারভাঙা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগের প্রধানদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রক্তের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ বদলে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক কি না, তা খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি। বিহারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তা যদি সত্যি হয়, তা হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।