মঙ্গলবার অযোধ্যার রামমন্দিরে যাওয়ার কথা কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের। তার ঠিক আগেই দলের প্রদেশ সভাপতি অজয় রাইকে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখার অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। তাদের দাবি, সোমবার সন্ধ্যা থেকে অযোধ্যার একটি হোটেলে ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে অজয়কে। পুলিশ-প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ নিয়ে মুখ খুলেছেন উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতিও। সে রাজ্যের সরকারের ভূমিকাকে ‘স্বৈরাচারী’ এবং ‘কাপুরুষোচিত’ বলেও সমালোচনা করেছেন অজয়।
অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামীর টাকা চুরির অভিযোগ ঘিরে গোটা দেশে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিবিআই-এর নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জিতে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রামমন্দির দর্শনে যাওয়ার কথা কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের। ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকার কথা ছিল অজয়ের। তবে এরই মধ্যে সোমবার বেশি রাতের দিকে ভিডিয়ো পোস্ট করে অজয় দাবি করেন, পুলিশ তাঁকে ‘গ্রেফতার’ করে নিয়েছে।
সমাজমাধ্যমে ওই ভিডিয়োটি পোস্ট করে উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা লেখেন,‘‘বিজেপি সরকারের স্বৈরাচার চরমে পৌঁছেছে। ৩০ জুন উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের ভগবান শ্রীরামের প্রার্থনা করতে যাওয়ার কথা ছিল। আমি অযোধ্যায় পৌঁছোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি সরকার এতটাই ভয় পেয়ে যায় যে, পুলিশ আমাকে আমার হোটেল থেকে গ্রেফতার করে। এখন তাদের জিপে করে নিয়ে যাচ্ছে আমাকে।” এই ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলেও খোঁচা দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের বক্তব্য, তাদের রামমন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কংগ্রেসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও এই অভিযোগের আগে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী দয়াশঙ্কর সিংহ পিটিআই-কে বলেন, “ওঁরা ভগবান রামের উপর বিশ্বাস রাখেন না। ওঁদের কেউ কেউ তো তাঁর অস্তিত্বই স্বীকার করেন না। ওঁরা কখনও ভগবান রামের দর্শনে যাননি। যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁরা কি কখনও রামমন্দিরে গিয়েছেন? রামমন্দিরের নির্মাণকাজে তাঁরা কি কোনও অবদান রেখেছেন?”