নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে হরীশ রাওয়াতের নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকারকে ফের বহাল করল হাইকোর্ট। আর ঠিক এক সপ্তাহ পরে এ মাসের ২৯ তারিখে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি কে এম জোসেফের নেতৃত্বে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আজই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আজ হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে হরীশ রাওয়াত সরকার ফের প্রতিষ্ঠিত হল। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির আগেই বিজয় বহুগুণার নেতৃত্বে কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ ৯ জনের বিধায়ক পদ খারিজ করেছিলেন স্পিকার। আদালত এই ৯ জনের আবেদনেও কোনও অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। যার ফলে এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজই বহাল রয়েছে। আর এক সপ্তাহে কোনও পরিবর্তন না হলে এই ন’জন বিধায়ক হরীশ রাওয়াতের আস্থা ভোটেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ফলে পরিস্থিতির বদল না হলে রাওয়াত আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে ফের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন অনায়াসে।
আদালতের রায়ের পর হরীশ রাওয়াত আজ বলেন, ‘‘আমাদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। আজ গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত, সব কিছু ভুলে এ বারে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য সবরকম সাহায্য করা।’’ কিন্তু বিজেপি এখনই রণে ভঙ্গ দিতে চাইছে না। দলের যে নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় উত্তরাখণ্ডে ছুটে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সঙ্গে করে দিল্লিতে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি আজ বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট যে ভাষায় সমালোচনা করছিল, তাতে এ ধরনের রায় অপ্রত্যাশিত ছিল না। এটিকে আমরা আদৌ ধাক্কা বলব না। ন’জন বিধায়কের সদস্য পদ খারিজের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। হরীশ রাওয়াত সরকারের কাছে আজও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। আস্থা ভোট বিজেপি-রই জয় হবে।’’
আরও পড়ুন- খাস দিল্লির উপকণ্ঠে শিশু বলির চেষ্টা! ধৃত তান্ত্রিক
আদালতের এই ধাক্কার পরেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বাড়িতে অরুণ জেটলি ও রাজনাথ সিংহ জরুরি বৈঠকে বসেন। সুপ্রিম কোর্টে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিও জানান, কংগ্রেসও শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাঁর মতে, ‘‘ভারতের ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সময় সেটি খারিজ করল আদালত। নরেন্দ্র মোদী সরকার যে ভাবে লোভী দৃষ্টি দিয়ে একের পর এক রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন করে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে, তাদের বোঝা উচিত এ ভাবে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজ্য হাতিয়ে নেওয়া যায় না।’’
আজ হাইকোর্টের রায়ের পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আদালতে মোদী সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে আদালত নাক গলাতে পারে না। কিন্তু সেই যুক্তি উড়িয়ে গতকালই উত্তরাখণ্ড আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তও আদালত খতিয়ে দেখতে পারে। রাষ্ট্রপতিও ভুল করতে পারেন। ২০০৬ সালে বিহারে রাষ্ট্রপতি শাসন খারিজ করার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর কালামের সেই সময়ের প্রেস সচিব এই খোলসা করেছিলেন। কিন্তু আদালত রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করলেও কংগ্রেস আপাতত সেই পথে হাঁটতে চাইছে না। অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির মতে, ‘‘কিছু নির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া আদালত রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তও খতিয়ে দেখতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশ মানার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিরও একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’’