বুধবার রাতে রাহুল গান্ধীর সুনেহরি বাগ রোডের বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। কেরলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে দাদা-বোনের দীর্ঘ আলোচনা হয়। রাহুল গান্ধীর পছন্দ ছিলেন তাঁর আস্থাভাজন কে সি বেণুগোপাল। কিন্তু প্রিয়ঙ্কা বলেন, ভি ডি সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। কারণ তাঁর সঙ্গে জনসমর্থন ও নিচুতলার কর্মীদের সমর্থন রয়েছে। কেরলে কংগ্রেসের শরিক দল আইইউএমএল বা মুসলিম লিগও সতীশনকেই চাইছে। দাদা-বোনের বৈঠকের পরে রাহুল নিজেই গাড়ি চালিয়ে প্রিয়ঙ্কাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রিয়ঙ্কার দাবিতে সিলমোহর দিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ড কেরলের কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভি ডি সতীশনের নাম ঘোষণা করল। গত পাঁচ বছর তিনি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে বাম সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু কেরলের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউডিএফ জোট ক্ষমতায় আসার পরে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল নেমে পড়েন। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালাও মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রায় দশ বছর কেরলের হাই কোর্টে ওকালতি করা সতীশন মুখ্যমন্ত্রীর দাবিতে অনড় থেকে জিতে গেলেন। সম্ভবত সোমবার তিনি শপথ নেবেন। সতীশনের বক্তব্য, “বেণুগোপাল ও চেন্নিথালা দু’জনের থেকেই আমি বয়সে ছোট। দু’জনেই আমাকেসাহায্য করেছেন।”
কংগ্রেস সূত্রের বক্তব্য, আইইউএমএল বা মুসলিম লিগ সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী চেয়ে প্রিয়ঙ্কাকে চিঠি দিয়েছিল। প্রিয়ঙ্কা স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁর ওয়েনাড় লোকসভা কেন্দ্রে জয়ের জন্য মুসলিম লিগের সমর্থনকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কারণ ওয়েনাড়ের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই মুসলিম। প্রিয়ঙ্কা আইইউএমএল-এর চিঠি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের হাতে তুলে দেন। রাহুলের উপরেও চাপ তৈরি করেন। খড়্গে মুসলিম লিগের নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে কথা বলেন। লিগের নেতারা জানিয়ে দেন, তাঁরা সতীশনকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চান। এরপরেই রাহুল বেণুগোপালকে ডেকে জানিয়ে দেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হচ্ছে না। বিজেপি আজ কটাক্ষ করেছে, মুসলিম লিগই ‘কংগ্রেসের আসল হাইকমান্ড’।
কংগ্রেস নেতারা মনে করছেন, ‘রাহুলের আস্থাভাজন’ হওয়াটাই কারণ হল বেণুগোপালের। তিনি ২০১৯ থেকে সাংগঠনিকসম্পাদক। কংগ্রেসের সংগঠনে বেণুগোপালের সাফল্যের কারণ হিসেবে কংগ্রেস নেতারা বলে থাকেন, তিনি রাহুল গান্ধীকে ‘ডিকোড’ করে ফেলেছেন। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করাহলে মনে হত, কংগ্রেস হাইকমান্ড কেরলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের উপরে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিল। রাহুল সেই পথে হাঁটলেন না। রাজস্থানে সচিন পাইলটকে মুখ্যমন্ত্রী না করে বিধায়কদের কথা শুনে অশোক গহলৌতকেমুখ্যমন্ত্রী করে এই ভুল হয়েছিল। কেরলেও অধিকাংশ বিধায়কও বেণুগোপালকেই সমর্থন জানান। যদিও কংগ্রেসের একটি সূত্রের দাবি, প্রার্থী বাছাইয়ের সময়ইবেণুগোপাল নিজের অনুগতদের টিকিট বিলি করেছিলেন। যাতে বিধায়কেরা জিতে এলে তাঁকেই সমর্থন করেন। কংগ্রেস হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত শুধু বিধায়কদের মতকে প্রাধান্য দেয়নি।
ভোটের আগে কংগ্রেস শশী তারুর বা কে সুধাকরণের মতো সাংসদদের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী না করার নীতি নিয়েছিল। বেণুগোপাল নিজেও আলাপ্পুঝা থেকে লোকসভার সাংসদ। ভোটে না লড়েও তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলে সেই নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠত। তার উপরে লোকসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বিধানসভায় জিতে আসতে হলে দু’টি উপনির্বাচনের মুখে পড়তে হত কংগ্রেসকে। সে ক্ষেত্রে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা থেকে যেত। বেণুগোপাল বলেন, “প্রিয়ঙ্কা ও রাহুল গান্ধী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গোটা কংগ্রেস তা মনে নিচ্ছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)