Advertisement
E-Paper

যৌন-ফাঁদ ও তথ্য পাচার তরজায় ফ্যাসাদে বরুণ, শাপে বর বিজেপির

প্রতিরক্ষা তথ্য পাচার ও যৌন কেলেঙ্কারিতে বরুণ গাঁধীর নাম জড়ালেও তাঁকে বাঁচাতে সামনে আসছে না বিজেপি। দলের সভাপতি অমিত শাহ তাঁর কাছে নামকে ওয়াস্তে ‘ব্যাখ্যা’ চেয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন।

দিগন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:১৭

প্রতিরক্ষা তথ্য পাচার ও যৌন কেলেঙ্কারিতে বরুণ গাঁধীর নাম জড়ালেও তাঁকে বাঁচাতে সামনে আসছে না বিজেপি। দলের সভাপতি অমিত শাহ তাঁর কাছে নামকে ওয়াস্তে ‘ব্যাখ্যা’ চেয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন। আর অভিযোগের ম্যাও সামলানোর দায় বরুণের ঘাড়ে চাপিয়ে দল দূরেই থাকতে চাইছে। সিবিআই আগে থেকেই এ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করেছে। বরুণের বিষয়টি সামনে আসায় তা নিয়েও এ বার তদন্ত করবে তারা। বিজেপি নেতারা ঘরোয়া ভাবে বলছেন, শাপে বর হল এতে। বরুণ যে ভাবে উত্তরপ্রদেশের ভোটে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে প্রচার করছিলেন, এ বার হয়তো তিনি তা বন্ধ করবেন। কারণ, সিবিআই তদন্ত তাঁকে নৈতিক ভাবে চাপে ফেলবে। শুধু তা-ই নয়, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে এ বার সিবিআই তদন্ত নিয়েই তাঁকে ব্যতিব্যস্ত থাকতে হবে।

গত কালই অরবিন্দ কেজরীবালের দলের দুই প্রাক্তন নেতা প্রশান্ত ভূষণ ও যোগেন্দ্র যাদব দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেন, বরুণ বিদেশি যৌনকর্মীদের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য অস্ত্র ব্যবসায়ীর দালালের হাতে পাচার করেছেন। এর সত্যতা অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন বরুণ। মানহানির মামলা করারও হুমকি দিয়েছেন বিজেপির এই সাংসদ। তবে তাঁর দল বিষয়টির সঙ্গে জড়াতে নারাজ। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা আজ বলেন, ‘‘বরুণ কোথায় কী করেছেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ব্যাপারে দলের কী করণীয় আছে?’’

শুধু বরুণের দিকে নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রশান্ত ভূষণরা। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বরুণকে আড়াল করছেন। অভিযুক্ত দালাল অভিষেক বর্মার প্রাক্তন সহযোগী আইনজীবী এডমন্ড অ্যালেন গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও চিঠি লিখে সব তথ্য জানিয়েছেন। তার পরেও প্রধানমন্ত্রী কোনও পদক্ষেপ করেননি। বিজেপির বক্তব্য, যৌন কেলেঙ্কারি ও প্রতিরক্ষা-তথ্য ফাঁসের যে অভিযোগ উঠেছে সেটা ঘটেছে ইউপিএ আমলে। গত জমানায় কী ঘটেছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন বিচলিত হতে যাবেন?

বিজেপির এক নেতা বরং বোঝালেন, কেন এটাকে তাঁরা শাপে বর হিসেবে দেখছেন। উত্তরপ্রদেশের ভোটের অনেক আগে থেকেই বরুণ নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে দলের নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়ানো শুরু করেছিলেন। নিজেই সমীক্ষা করিয়ে দাবি করছিলেন, মুখ্যমন্ত্রিত্বের দৌড়ে তিনিই সব থেকে এগিয়ে আছেন। ইলাহাবাদে দলের কর্মসমিতির বৈঠকের সময় গোটা শহর নিজের পোস্টারে ছয়লাপ করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তখনও দল এটি ভাল ভাবে নেয়নি। এখানেই শেষ নয় বিজেপির কর্মসূচি বা মোদী সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রচার বা প্রসারে বরুণ তেমন ভাবে না ঝাঁপালেও সংবাদমাধ্যমের একাংশ তাঁর ঢাক পেটাচ্ছে। গত ক’দিন ধরে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে, বরুণ নিজের কেন্দ্র সুলতানপুরে কী ভাবে ধনীদের অনুদান নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গরিবদের সাহায্য করছেন। বরুণের এই দলছুট উদ্যোগও ভাল চোখে দেখেননি বিজেপি নেতৃত্ব। দলের নেতারা মনে করছেন, বিজেপি শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বাছাই করুক বা না করুক, ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশে বরুণের ‘বাড়াবাড়ি’ বন্ধ হবে। বিজেপির ওই নেতাটির কথায়, ‘‘এ বারে অন্তত নৈতিকতার স্বার্থে নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে

তুলে ধরা বন্ধ করা উচিত বরুণের।’’

বরুণকে নিয়ে অস্বস্তি বরং কংগ্রেসেই। কারণ বরুণও ‘গাঁধী’। বিজেপিতে গাঁধী-নামের তেমন মাহাত্ম্য না থাকলেও, কংগ্রেসে ছবিটা অন্য রকম। তা ছাড়া, বিজেপিতে গেলেও সনিয়া ও রাহুল গাঁধী, বিশেষ করে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরার সঙ্গে বরাবরই সুসম্পর্ক বজায় রেখে এসেছেন বরুণ। ফলে বিপক্ষ শিবিরের আর কোনও নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে কংগ্রেস যে রকম তেড়েফুঁড়ে ঝাঁপাতে পারত, সনিয়ার স্নেহভাজন এই বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে তা করা যাচ্ছে না। কংগ্রেস তাই বরুণকে আক্রমণের পথে হাঁটেনি। এক অনুষ্ঠানে বরুণকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দলের মুখপাত্র অজয় কুমার আজ দায় এড়িয়ে বলেন, ‘‘তিনি তো বিজেপির সাংসদ। অমিত শাহেরই এর জবাব দেওয়া উচিত।’’

সেই জবাব যে অমিত দেবেন না, দলের অন্দরের সমীকরণ থেকেই তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। গত কাল প্রশান্ত ভূষণদের সাংবাদিক বৈঠকের পরেই রাজধানীর অলিন্দে এই প্রশ্নও উঠেছে যে, বরুণের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় জল ঢালতে বিজেপিই কি এটা করাল? বরুণের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠার পিছনে বিজেপিরই কারও হাত নেই তো? নরেন্দ্র মোদী, অরুণ জেটলির ঘোর বিরোধী অরবিন্দ কেজরীবাল। আপ নেতার সঙ্গ ছেড়ে এসে প্রশান্ত ভূষণরা এখন শত্রুর শত্রুকে বন্ধু মনে করছে না তো! তার উপর প্রশান্ত ভূষণদের সঙ্গে বিজেপির কিছু শীর্ষ নেতার যোগাযোগও সুবিদিত।

কংগ্রেসের রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধে টক্কর দিতে বরুণকে বিজেপিতে নিয়ে এসেছিলেন প্রয়াত প্রমোদ মহাজন কিন্তু বরুণ গোড়াতেই স্পষ্ট করে দেন, তিনি গাঁধী পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করবেন না। তা তিনি করেনওনি। সনিয়া-রাহুলের বিরুদ্ধে দলের অস্ত্র হতে নারাজ এই নেতাটিকে তাই গাঁধী বলে রেয়াত করার কারণ দেখেন না বিজেপির অনেকেই। এবং সেটা অনেক দিন ধরেই। উত্তরপ্রদেশের গত ভোটের আগে এমন জল্পনাও শুরু হয়েছিল যে, বরুণ হয়তো কংগ্রেসেই ফিরে যাবেন। আর এ বারে বরুণের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আশা ও যাবতীয় চেষ্টায় জল ঢালল যৌন কেলেঙ্কারি ও প্রতিরক্ষা-তথ্য পাচারের অভিযোগ। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘দল তাঁকে সাধারণ সম্পাদকও করেছিল। কিন্তু গাঁধী পরিবারের স্বভাব ও ঔদ্ধত্য ছাড়তে পারেননি বরুণ। আজ কংগ্রেসে রাহুলের যে দশা, বরুণেরও তাই একই হাল। যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছ, সেটা তাঁকেই সামাল দিতে হবে। উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষও জানেন, এই অভিযোগ উঠেছে এক গাঁধীর বিরুদ্ধে। বিজেপির বিরুদ্ধে নয়।’’

BJP Varun Gandhi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy