E-Paper

ধনখড়-ডেরেক সংঘাতে উত্তপ্ত হল রাজ্যসভা

ডেরেক বিজেপিকে আক্রমণ করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রসঙ্গ তুলে। অভিযোগ, মহিলাদের সম্পর্কে অসাংবিধানিক মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।‌

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৮:০০

—ফাইল চিত্র।

বর্ষাকালীন অধিবেশনে বারবার ঘটেছে। সংসদের নতুন ভবনের বিশেষ অধিবেশনেও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হল তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের। আজ মহিলা সংরক্ষণ বিল সংক্রান্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে বলতে উঠে তৃণমূল নেতা একুশের বিধানসভার প্রসঙ্গ তোলেন। যে হেতু আলোচনা মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ নিয়ে, ডেরেক আজ মোদী সরকারের ‘পুরুষতন্ত্র’কে বিঁধতে বলেন, “পুরুষেরা বিপুল টাকা, সংবাদমাধ্যম, পেশিশক্তি এবং নারীবিদ্বেষকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বাংলায়। আর ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, দিদি ও দিদি! সেই নারী লড়ে গিয়েছেন এদের বিরুদ্ধে। বাংলার মানুষ জবাব দিয়েছেন। ফলে এখন রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য, শিল্প, অর্থ— সব মন্ত্রকই মহিলাদের হাতে। বিজেপির ১৬টি রাজ্যের কোথাও মহিলা মুখ্যমন্ত্রী নেই। আপনারা নতুন সদন তৈরি করেছেন ঠিকই, কিন্তু আমার অনুরোধ, প্রথমে মানসিকতা বদলান।“‌

এর আগেই ডেরেক বিজেপিকে আক্রমণ করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রসঙ্গ তুলে। অভিযোগ, মহিলাদের সম্পর্কে অসাংবিধানিক মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।‌ ২০১০-এর ১২ এপ্রিলের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত যোগীর সাক্ষাৎকার পড়ে শোনান ডেরেক। তিনি পড়েন, “যোগী বলেছেন ‘‌নয়াদিল্লির এসি রুমে যাঁরা থাকেন, তাঁরা জননীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন না। এই বিল (‌মহিলা আসন সংরক্ষণ বিল)‌ ভারতীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ডুবিয়ে দেবে এটা যদি ঘটে। পুরুষদের মধ্যে যদি মহিলা সত্তার উন্নতি ঘটে তা হলে তারা ভগবান হয়ে যায়। কিন্তু যদি মহিলাদের মধ্যে পুরুষ সত্তার বিকাশ ঘটে, তা হলে তারা দানব হয়ে যায়। পাশ্চাত্য ধারণায় মহিলাদের স্বাধীনতা সঠিক ভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন ভারতীয় প্রেক্ষাপটে’।” এর পরে দৃশ্যতই রুষ্ট চেয়ারম্যান ধনখড় বলেন, “আপনি এই যে অভিযোগ আনলেন তার প্রমাণ দিন। আপনি বলছেন, প্রধানমন্ত্রী টাকা নিয়ে বাংলায় গিয়েছিলেন। আজকের মধ্যে এর তথ্যপ্রমাণ আপনাকে দিতে হবে।”

তৃণমূলের রাজ্যসভার অন্য সাংসদ দোলা সেনও আজ বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, “বাংলায় একটা কথা আছে ভোট বড় বালাই। এত দিন সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি, এত বছর পরে মনে হল মহিলা বিল আনার কথা? আসলে এটা একটা জুমলা মাত্র।” তাঁর বক্তব্য নোট বাতিল, কোভিড, রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলির বিলগ্নিকরণ— এই সব কিছুতে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মহিলারা। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সর্বস্তরে মহিলা সংরক্ষণ অনেক দিন আগেই চালু করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন দোলা তাঁর বক্তৃতায়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy