E-Paper

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ সুরাতের বস্ত্রশিল্পেও

ভারতে তৈরি কয়লার গুণগত মান তেমন ভাল নয় বলেই জানাচ্ছেন কারখানা মালিকদের একাংশ। কিন্তু এই অবস্থায় দেশীয় কয়লার উপরেই নির্ভর করে চালাতে হচ্ছে বেশিরভাগ কারখানা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৫

—প্রতীকী চিত্র।

এ দেশে ইরান যুদ্ধের প্রভাব আগেই এসে পড়েছে গৃহস্থের হেঁশেলে। এ বার পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যতম বস্ত্রশিল্প তালুক হিসেবে পরিচিত গুজরাতের সুরাত শহরেও। শহরতলির কাপোডরা এলাকাতেই রয়েছে অসংখ্য কারখানা। অন্তত ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন এই কারখানাগুলিতে। পরিবার নিয়ে বেশির ভাগ কর্মী থাকেনও আশপাশের এলাকার ভাড়া বাড়িগুলোতে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা থেকে আসা সেই সব শ্রমিকের অনেকেই এখন পরিবার নিয়ে নিজেদের রাজ্যে ফেরা শুরু করেছেন।

এর কারণ মূলত দু’টো। একে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার অমিল। আর যেটুকু মিলছে, সেই সব সিলিন্ডারের দামও আকাশছোঁয়া। তাই দৈনিক রোজগারের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে অপারগ বেশির ভাগ পরিবারই। প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের অভাবের জন্য অস্থায়ী উনুনের জোগাড় করে কিছু কিছু পরিবার রান্নার ব্যবস্থা করতে শুরু করেছে। কিন্তু সেখানেও জ্বালানির জন্য কাঠ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্য আর নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা লোকেশ কুমার বলেন, ‘‘দিনে মাত্র ৫০০ টাকা রোজগার। গ্যাস ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি গ্যাস চাইছেন ৭০০ টাকা করে। কী করে দেব অত টাকা? কী খাওয়াব বাড়ির শিশুদের?’’

উন্মেষ নামে এক দিনমজুরও স্পষ্ট করলেন নিজেদের পরিস্থিতির কথা। ‘‘আমরা এত কম রোজগার করি। গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া। কী করে দেব? এর পরে আনাজের দাম বেড়ে গেলে কোথায় যাব আমরা?’’, বলেন তিনি।

আর দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি। সুরাতের বস্ত্রশিল্পের একটা বড় অংশই নির্ভর করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কুয়েত, চিনের মতো দেশ থেকে আসা কাঁচামালের উপরে। সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ থাকায় পশ্চিম এশিয়া থেকে মনো ইথাইলিন গ্লাইকল, পিউরিফায়েড টেরিপথ্যালিক অ্যাসিডের মতো কাঁচামাল আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উৎপাদনে। বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে শুধু মাত্র ভরসা এখন চিন। তবে কারখানা মালিকেরা জানাচ্ছেন, উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি না হলেও কাঁচামালের দাম বাড়ছে হু হু করে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখাআর কত দিন সম্ভব হবে, তা নিয়ে চিন্তায়বস্ত্রশিল্প সংগঠনগুলি।

এর সঙ্গে জুড়েছে কয়লার সঙ্কটও। কারখানাগুলি বেশির ভাগই চলে কয়লার জোরে। মূলত ইন্দোনেশিয়া থেকে আসে সেই কয়লা। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের দেশের জোগান ঠিক রাখার জন্য কয়লা রফতানির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। ভারতে তৈরি কয়লার গুণগত মান তেমন ভাল নয় বলেই জানাচ্ছেন কারখানা মালিকদের একাংশ। কিন্তু এই অবস্থায় দেশীয় কয়লার উপরেই নির্ভর করে চালাতে হচ্ছে বেশিরভাগ কারখানা।

পরিযায়ী শ্রমিকেরা নিজেদের রাজ্যে ফিরে গেলেও সেই সুযোগও নেই কমলা দেবীর মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের। কমলা জানালেন ৪০ বছর ধরে কাপোডরাতেই থাকেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘এখানেই আমাদের বাড়ি। আমাদের কোথাও যাওয়ার নেই। সরকার কি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কমাতে কিছু করতে পারে না? এখনই সরকারের মাঠে নামা উচিত।’’ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, প্রশ্ন তোলেন ৬৭ বছরের কমলা।


(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Surat Textile Industry

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy