ওরা ফোনে এতটাই আসক্ত ছিল যে, মাঝেমধ্যেই বকাঝকা করতেন। তিন কন্যার মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন তাদের বাবা চেতন কুমার। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, কেন তিনি ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন। কী ভাবে তিন কন্যাকে আদর যত্নে মানুষ করেছেন ইত্যাদি।
চেতন বলেন, ‘‘ওরা কোরীয় সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল। কোরীয় রীতিনীতি, গান, নাটক, ছবি এমনকি গেমে এমন ভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল যে সব সময় ফোনেই মুখ গুঁজে পড়ে থাকত।’’ এ কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন চেতন। তাঁর কন্যাদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন কারও সঙ্গে না ঘটে বলেও প্রার্থনা করেছেন তিনি। চেতন জানিয়েছেন, কন্যারা তাঁর চোখের মণি ছিল। অত্যন্ত আদর যত্নে তিন জনকেই মানুষ করেছেন। কিন্তু তারা যে এই কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলবে ভাবতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘‘এত ফোন দেখত মেয়েরা মাঝেমধ্যে নিজেরই বিরক্ত লাগত। ফোন দেখতে দেখতে চোখ ফুলে যেত। আর সে কারণেই ওদের ফোন কেড়ে নিয়েছিলাম। কোনও বাবা-মা কি চায়, তাঁদের সন্তানদের ক্ষতি হোক। তাই আমিও ওদের কোনও ক্ষতি চাইনি।’’ এর পরই চেতন প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সন্তানদের ভাল রাখার জন্য ফোন কেড়ে নেওয়া কি অপরাধ? ওদের ফোন কেড়ে নিয়েছিলাম বলে রেগে গিয়েছিল।’’ চেতনকে প্রশ্ন করা হয় তাঁর তিন সন্তান এবং পারিবারিক অশান্তি নিয়েও। প্রসঙ্গত, তিন কিশোরীর ঘর থেকে যে ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে, সেখানে পারিবারিক অশান্তির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে চেতনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। তিন স্ত্রী সম্পর্কেও বিশেষ কিছু বলতে চাননি।
আরও পড়ুন:
তবে পুলিশ সূত্রে খবর, চেতনের তিন স্ত্রীকে নিয়েও সন্দেহ বাড়ছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে প্রথমে দুই স্ত্রীর কথা জানান চেতন। কিন্তু তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চেতন সত্যিটা গোপন করেছিলেন। দুই নয়, তাঁর তিন স্ত্রী রয়েছে। কিন্তু কেন তিনি এ কথা গোপন করতে চেয়েছিলেন? এ ছাড়াও পুলিশের কাছে দাবি করেন, প্রথম স্ত্রী সন্তান না হওয়ায় শ্যালিকা হিনাকে বিয়ে করেন ২০১৩ সালে। কিন্তু পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথম স্ত্রী সুজাতার সন্তান নিশিকা। আর হিনার দুই কন্যা প্রাচী ও পাখি।