শুক্রবার দুপুর ১২টা। বেঙ্গালুরুর রিয়েল এস্টেট কর্তা সিজে রয়ের সংস্থায় হানা দেয় আয়কর দফতর। সঙ্গে পুলিশও ছিল।
দুপুর ২টো। অফিসে আসেন রয়।
দুপুর ২টো থেকে ৩টে। আয়কর আধিকারিকেরা রয়কে কিছু নথিতে স্বাক্ষর করতে বলেন। বেশ কিছু নথি যাচাই করেন।
দুপুর ৩টে। নিজের কেবিনে ঢুকে যান রয়।
দুপুর ৩টে ১০ মিনিট। রয়ের কেবিন থেকে গুলির আওয়াজ। আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা ভিতরে গিয়ে দেখেন, গুলিবিদদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, রয়ের বুকের বাঁ দিকে গুলি লেগেছে। তদন্তকারী এক সূত্রের দাবি, তিন দিন ধরে রয়ের সংস্থা এবং বেশ কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিলেন। শুক্রবার রয়ের অফিসে আসেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। রয় অফিসে আসার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। রয়ের অফিস থেকে নানা রকম নথিপত্র সংগ্রহ করেন আয়কর আধিকারিকেরা। দুপুর ৩টে পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলে।
ওই সূত্রের দাবি, রয় একটু বিরতি চেয়েছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের জানান, বাড়িতে ফোন করতে চান। তার পরই ব্যক্তিগত কেবিনে ঢুকে যান। তার পরই গুলির শব্দ পাওয়া যায়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মনে করছে, রয় আত্মঘাতী হয়েছেন। আয়কর আধিকারিকদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে পুলিশ বলে, ‘‘রয়কে তাঁর দৈনিক কাজকর্মে বাধা দেওয়া হয়নি। আমরা শুধুমাত্র তল্লাশি চালাতে এসেছিলাম। তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেটি সঠিক কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।’’
কেরল থেকে আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা এসেছিলেন রয়ের সংস্থা এবং বাড়িতে তল্লাশি চালাতে। বেঙ্গালুরু, কেরল ছাড়াও দুবাইয়ে রয়ের রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা রয়েছে। মালয়ালম ছবির প্রযোজনাও করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি মালয়ালম টিভিতে সম্প্রচারিত ‘বিগ বস মালয়ালম’-এর প্রযোজনাও করে রয়ের সংস্থা। রয়ের ভাই সিজে বাবু জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটেও দাদার সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। বাবুর দাবি, আয়কর হানা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে ছিলেন রয়। তাঁর কথায়, ‘‘দাদার সঙ্গে দু’বার ৩০ মিনিট কথা হয়। আমাকে আয়কর হানার বিষয়টি জানিয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় আমাদের দেখা করার কথা ছিল।
প্রসঙ্গত, রয়ের সংস্থার বিরুদ্ধে আয়কর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পুলিশ সূত্রে খবর, কর্নাটক হাই কোর্ট এবং ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালেও আবেদন করেছিলেন রয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন রয়। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামী সংখ্যা ১৩ লক্ষ।