মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ত্বিশা শর্মাকে পার্লারে দেখা গিয়েছিল। সেখানে মাথা মাসাজ করাচ্ছিলেন তিনি। এ বার সেই পার্লারের মালিক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন। এনডিটিভি-র কাছে পার্লারের মালিক কিরণ পরিহার দাবি করেছেন, ত্বিশা যে দিন পার্লারে এসেছিলেন, তার ঠিক পরদিনই তাঁর শাশুড়ি তাঁকে ত্বিশার সম্পর্কে নানা রকম প্রশ্ন করেন। ত্বিশা কখন এসেছিলেন, কত ক্ষণ ছিলেন, কত টাকা দিয়েছেন, কী ভাবে টাকা মিটিয়েছেন ইত্যাদি।
পরিহারের আরও দাবি, বার বার একই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। শুধু তা-ই নয়, ত্বিশা যে পার্লারে এসেছিলেন সেই ভিডিয়ো ফুটেজ দেওয়ার জন্যও জোরাজুরি করেন ত্বিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ। পার্লার মালিক আরও দাবি করেছেন, ত্বিশা তাঁর নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন। চার-পাঁচ বার পার্লারে এসেছিলেন। কিন্তু এ বার ন’মাস পরে পার্লারে এসেছিলেন ত্বিশা। ঘটনাচক্রে, ওই দিনই পার্লার থেকে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে ত্বিশার দেহ উদ্ধার হয়।
পার্লার মালিক আরও জানিয়েছেন, ত্বিশার শাশুড়িও তাঁর পার্লারে আসেন। সেই সূত্রে তিনি ত্বিশার শাশুড়িকে চেনেন। ত্বিশার মৃত্যুর পরদিনই তাঁর কাছে গিরিবালা ফোন করে সব কিছু জানতে চেয়েছিলেন বলে দাবি পার্লার মালিকের। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তাঁকে। শুধু তা-ই নয়, ত্বিশা যে পার্লারে এসেছিলেন তার কোনও প্রমাণ আছে কি না, যদি থাকে, তা হলে তিনি যেন সেটি দিয়ে দেন— এমন অনুরোধও করেন। তবে ত্বিশা কোনও টাকা দেননি বলেই দাবি পার্লার মালিকের। তিনি জানিয়েছেন যে, গত ফেব্রুয়ারিতে দাদার বিয়ের সময় প্রিপেড প্যাকেজ কিনেছিলেন ত্বিশা।
পার্লার মালিক পরিহার আরও দাবি করেন, ত্বিশার যে দিন মৃত্যু হয়, সে দিন রাতেও পারিহারকে ফোন করেছিলেন গিরিবালা। পরিহারের কথায়, ‘‘বার বার কেন ফোন করে ত্বিশার সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন তাঁর শাশুড়ি, বিষয়টি নিয়ে একটু সন্দেহ হয়েছিল। বার বার মনে হচ্ছিল, ত্বিশার কিছু হয়নি তো!’’ যদিও গিরিবালা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, ত্বিশা আত্মহত্যা করেছেন। পরিহারের কথায়, ‘‘এই খবর পাওয়ার কিছু পরেই পার্লারে ছয়-সাত জন আসেন। প্রত্যেকের পরনে ছিল সাদা-কালো পোশাক। দেখেই মনে হচ্ছিল ওঁরা আইনজীবী। তাঁদের মধ্যে থেকে এক মহিলা আমাকে নিজের পরিচয় দেন। তার পর ত্বিশার ভিডিয়ো ফুটেজ চান। আমাকে বলা হয়, পুলিশের কাজে লাগবে ওই ফুটেজ। তাই দিতে হবে।’’ পার্লার মালিকের আরও দাবি, টেকনিশিয়ান ডেকে এনে একপ্রকার জোর করেই ভিডিয়ো ফুটেজ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁর পার্লার থেকে। তবে যাঁরা ফুটেজ উদ্ধার করতে এসে নিজেদের আইনজীবী বলে পরিচয় দেন, তাঁরা আদৌ কোনও আইনজীবী কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পার্লার মালিক।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে ভোপালের তরুণী ত্বিশার দেহ উদ্ধার হয়। পণের জন্য তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে ত্বিশার বাপেরবাড়ির অভিযোগ। শুক্রবার ত্বিশার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১০ দিন পলাতক থাকার পর আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ত্বিশার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্বিতীয় বার তাঁর দেহের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট।